শিশু ফাহিমা হত্যা মামলায় জাকিরের মৃত্যুদণ্ড, দুই ভাই খালাস
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে (৩০) ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
এ মামলায় অভিযুক্ত জাকিরের দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু ওবায়দা হত্যাকাণ্ডের মাত্র তিন মাসের মাথায় এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুল ইসলাম চৌধুরী (বাবর) বলেন, মামলাটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়ে রায় প্রকাশ পাওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এতে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। তবে উচ্চ আদালতের অনুমোদনের পরই প্রধান আসামির এ দণ্ড কার্যকর হবে।
অন্যদিকে প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড হলেও দুই সহোদর বেকসুর খালাস পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত ফাহিমার পরিবার।
ফাহিমার বাবা রাইসুল হক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমার নিষ্পাপ মেয়েটার লাশ গুমের সঙ্গে জাকিরের দুই ভাই সরাসরি জড়িত ছিল, কিন্তু তারা খালাস পেয়ে গেল। আমরা জাকিরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার পাশাপাশি খালাস পাওয়া দুই আসামির উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে উচ্চ আদালতে আপিল করব।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৬ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের চার বছরের কন্যাসন্তান ফাহিমা নিখোঁজ হয়। পরে জানা যায়, ৭ মে প্রতিবেশী তোতা মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন সিগারেট এনে দেওয়ার কথা বলে ফাহিমাকে ঘরে ডেকে এনে ধর্ষণচেষ্টা চালায়। শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে ধরা পড়ার ভয়ে তাকে গলাটিপে হত্যা করা হয় এবং লাশ দুই দিন একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখার পর বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
৮ মে রাতে পুলিশ ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করে এবং ১১ মে রাতে পুলিশ জাকিরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর জাকির আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে এ লোমহর্ষক ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেন। পুলিশ ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় চার্জশিট দাখিল করে এবং গত ১ জুলাই আদালতে বিচারকাজ শুরু হওয়ার মাত্র এক মাসের দ্রুততম বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দেন।
