এএসপির গাড়িতে বোমা হামলা

ছাত্রলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি দামুড়হুদা আ’লীগের

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগকর্মী খালিদুজ্জামান টিটু। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা সহকারী পুলিশ সুপারের গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগকর্মী খালিদুজ্জামান টিটু (২০) গুলিবিদ্ধের ঘটনাটি তদন্তপূর্বক বিবেচনার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। 

সোমবার সকালে এ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

খালিদুজ্জামান টিটু দর্শনা সরকারি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজ ছাত্রলীগকর্মী। টিটু দর্শনা ইসলাম বাজারের মৃত মোজাহিদ আলীর ছেলে।

এর আগে রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের সামনে সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলা হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে আহত হন টিটু। পরে পুলিশ তাকে আটক করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

দর্শনা সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন তপু বলেন, টিটু ছাত্রলীগের কর্মী, তার আচার ব্যবহার, চলাফেরা খুব ভালো। বোমা হামলার ঘটনায় যদি সম্পৃক্ত থাকে, তা হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। যদি তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকে, তা হলে নিঃস্বার্থে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে দর্শনা পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনাল হক বলেন, ছেলেটি আমাদের সামনে বড় হয়েছে। তাকে কখনও অন্যায় কাজ করতে দেখিনি। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান টিটু। তার বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।

দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল আলম ঝন্টু বলেন, টিটুকে আমরা ছোটকাল থেকে চিনি ও জানি। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তার বোমা হামলার ঘটনাটি আমাদের কাছে ধোঁয়াশা মনে হচ্ছে। সঠিকভাবে তদন্ত করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।  

এদিকে টিটুর দাদি সুফিয়া খাতুন বলেন, আমার নাতি  ছোট থেকে শান্ত-ভদ্র, কিছু দিন আগে তার বাবা মারা যায়। গত রোববার সন্ধ্যায় উধলীতে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে তা দেখতে যায়। পরে শুনতে পাই আমার নাতিকে গুলি করেছে পুলিশ। আমার নাতি পুলিশের গাড়িতে কখনও বোমা হামলা করতে পারে না। ও কখনও কোনো খারাপ কিছু করেনি। তাকে ছেড়ে দিন।

টিটুর চাচা ফারুক হোসেন সাগর বলেন, আমার ভাতিজা কেন? আমাদের পরিবারের কারও নামে মামলা বা জিডিও নেই।

আমি প্রশাসনের কাছে হাত জোড় করছি-বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে মুক্তি দিন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে দামুড়হুদা ও জীবননগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাসেলের গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় মামলা হবে। তবে টিটু ছাত্রলীগ করে কিনা আমার জানা নেই।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আওলিয়ার রহমান জানান, গুলিতে আহত যুবকের ডান পা ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এ ছাড়া তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হয়েছে। বর্তমানে সে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।  

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার উথলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন শেষে চুয়াডাঙ্গায় ফিরছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেলসহ চার কনস্টেবল।

সহকারী পুলিশ সুপার আবু রাসেল জানান, রাত ৯টার দিকে জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের দর্শনা ফিলিং স্টেশনের কাছে পৌঁছলে মোটরসাইকেল আরোহী দুজন আমার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারে। বোমাটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে গাড়ির ডান দিকের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে টিটু নামে এক যুবক আটক হয়। 

আটক টিটু দামুড়হুদা দর্শনা ইসলাম বাজারের মৃত মোজাহিদ আলীর ছেলে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

রাতেই চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িতে হামলা চালিয়ে বড় ধরনের অঘটন ঘটনানোর পরিকল্পনা ছিল হামলাকারীদের। তবে অল্পের জন্য পুলিশের সবাই প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।