কেরানীগঞ্জে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের ওপর হামলা

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

কেরাণীগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও ভূমি অফিসের নাজির রাকিব হোসেনের শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ছবি: যুগান্তর
কেরাণীগঞ্জের সহকারী কমিশনার ও ভূমি অফিসের নাজির রাকিব হোসেনের শাস্তির দাবিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা কর্মচারীরা। ছবি: যুগান্তর

কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর মোশারফ হোসেনসহ কয়েকজন চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমানের নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে হামলার পর অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার ও ভূমি অফিসের নাজির রাকিব হোসেনের শাস্তির দাবিতে দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেন চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এছাড়াও তারা কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন।

খবর পেয়ে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. এহশানুল করিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শরীফ রায়হান কবির, কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহে এলিদ মাইনুল আমিন, কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পরে ঘন্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে তারা এ বিষয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজে যোগ দেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিববার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর মোশারফ হোসেন জানান, বুধবার সকালে সহকারী কমিশনার মতিউর রহমান তার এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) নেয়ার জন্য ভূমি অফিসের একজন পিয়নকে তার কার্যালয়ে পাঠান।

এসময় তিনি এসিল্যান্ডকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে আসতে বলেন এবং শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এসিআর দেয়া হবে বলে জানান।

কিছুক্ষণ পর এসিল্যান্ড সেখানে উপস্থিত হন। তখন তার রক্তচাপ মাপা হয় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়। পরে নিয়মানুযায়ী তাকে ইসিজি করার জন্য হাসপাতালে দোতলায় পাঠানো হয়।

সেখানে যাওয়ার পর কর্তব্যরত টেকনেশিয়ান তার শার্ট খুলতে বললে তিনি রেগে সেখান থেকে চলে আসেন। এরপর তিনি ডা. মীর মোশারফ হোসেনের কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় তাকে গালমন্দ করেন। চিৎকার চেচামেচি শুনে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রুমের সামনে ভিড় জমালে তিনি তাদেরও গালমন্দ করেন।

এসময় ভূমি অফিসের নাজির রাকিব হোসেন ১০/১২ জন সন্ত্রাসী নিয়ে হাসপাতালে ঢুকে সবাইকে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা হাসপাতালে মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. জাকির হোসেন, সার্জারি বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. আনোয়ার হোসেন, মেডিকেল অফিসার ডা. মোরশেদের ওপর চড়াও হন।

এক পর্যায়ে ডা. জাকির হোসেনের জামার কলার চেপে ধরে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এসময় আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বের করে দিয়ে প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয় হামলাকারীরা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র নার্স তৃপ্তি রানী ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, একজন বিসিএস অফিসারের নেতৃত্বে এ হামলার আমরা নিন্দা জানাই। এসিল্যান্ড মতিউর রহমান, নাজির রাকিব হোসেনসহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানাই।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার মতিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালের দোতলায় ইসিজি করতে গেলে এক নারী টেকনোলজিস্ট আমাকে জামা-কাপড় খুলতে বলেন। এতে আমি অপমানিত বোধ করি এবং সেখান থেকে চলে আসি। এ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের সঙ্গে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে হামলার বিষয়টি সঠিক নয়।

আরেক অভিযুক্ত ভূমি অফিসের নাজির রাকিব হোসেন দাবি করেন, এসিআর নেয়ার সময় আমি এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে ছিলাম। সন্ত্রাসী নিয়ে হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহে এলিদ মাইনুল আমিন যুগান্তরকে বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে নিয়ে আমরা বৈঠক করেছি। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×