রংপুর আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধ ২ নারীর মৃত্যু

  রংপুর ব্যুরো ০৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

রংপুর

রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসে জনজীবন একেবারে অচল হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো।

শীতবস্ত্র না থাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে গিয়ে পরনের কাপড়ে আগুন লেগে অগ্নিদগ্ধ হয়ে গত ৫ দিনে ২ নারীর মৃত্যু হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তারা।

ওই হাসপাতালেই গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৫ জন। এদের মধ্যে অন্তত পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

রংপুর অঞ্চলে গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা ৭-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। একদিকে প্রচণ্ড শীত, অন্যদিকে কনকনে বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এতে বিপাকে পড়েছে হাজার হাজার সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবার। শীত বস্ত্রের অভাবে খড় কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন তারা। বিশেষ করে আগুন পোহানোর সময় অসাবধানতাবশত শাড়ির আঁচলে কিংবা কাপড়ে আগুন ধরে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হচ্ছেন নারী ও শিশুরা।

গত ৫ দিনে আগুন পোহানোর সময় ২৩ জন নারী ও শিশু অগ্নিদগ্ধ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই নারী লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার রাজিয়া বেগম (২৭) এবং একই জেলার আদিতমারীর মোমেনা বেগম (৩২) শুক্রবার মারা গেছেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, শীতের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আগুন পোহানোর সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে গত বছর ১২ জন মারা যান। এ বছর ২৩ জন অগ্নিদগ্ধ রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই রোগী আসছে।

তিনি জানান, যে হারে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তাতে করে এ বছর শীতে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বার্ন ইউনিটে ওয়ার্ডে মোট বেড সংখ্যা ২৬টি। অথচ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বাধ্য হয়ে ফ্লোরে রাখতে হচ্ছে।

অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, রোগীদের বেশির ভাগেরই শরীরের নিচের অংশ ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত পুড়ে গেছে। অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি জানান, এছাড়া প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। হতদরিদ্র রোগীর স্বজনরা প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে পারছেন না। তার পরেও চেষ্টা করে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×