সুবর্ণচরের ঘটনায় ২ আসামির স্বীকাররোক্তিমূলক জবানবন্দি

  যুগান্তর রিপোর্ট, নোয়াখালী ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালী

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ৩০ ডিসেম্বর রাতে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে আরও ২ জনকে গ্রেফতার করছে ডিবি পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হলো।

রোববার রাতে উপজেলার চর জুবলি ইউনিয়নের চর বাগ্যা গ্রামের মৃত সিদু মিয়ার ছেলে আবুলকে (৩২) পরিষ্কার বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই গ্রামের রফিক উল্লার ছেলে আসামি মুরাদকে (২২) সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া গ্রামের ব্রিকফিল্ড থেকে গ্রেফতার করছে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত আসামি আবুল ও মুরাদ সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ ম্যাজিস্ট্রেট নবমিতা গুহর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এ ২ জনসহ অপর আসামিরা গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে স্বীকার করে।

জেলা ওসি ডিবি আবুল খায়ের এ ব্যাপারে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণধর্ষণের শিকার চিকিৎসাধীন গৃহবধূকে দেখতে যান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মন্নান, জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, জেলা পরিষদরে নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মাহে আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুর রউফ মণ্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইউছুফ, পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াস শরীফ, সদর উপজেলা ইউএনও মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় তারা ওই গৃহবধূর শারীরিক খোঁজখবর নিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্লাহসহ অপর চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মন্নান সাংবাদিকদের বলেন, নির্যাতিত গৃহবধূর খোঁজখবর নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সংবাদকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসন ও সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে ১০ জনকে গ্রেফতার করছে পুলিশ। অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে প্রশাসন ও পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অপরাধীরা কোনো ছাড় পাবে না।

নির্যাতিত গৃহবধূকে চিকিৎসা, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা দিতে সরকার ও প্রশাসন আন্তরিক রয়েছে। নোয়াখালীর চরাঞ্চলে পর্যাপ্ত খাসজমি রয়েছে। এসব খাসজমি বিধি মোতাবেক বন্দোবস্ত দিয়ে নির্যাতিত পরিবারকে নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনে ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিন সকাল ১০টায় ধানের শীষ প্রতীকে কেন্দ্রে ভোট দিলে সুবর্ণচর উপজেলায় মাধ্যম বাগ্যা গ্রামের সিএনজি চালকের স্ত্রীর সঙ্গে আসামিদের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গৃহবধূকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

এর জের ধরে রাত ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের কর্মীরা গৃহবধূর স্বামী, ছেলের হাত বেঁধে ও শিশু মেয়েকে পিটিয়ে আহত করে। পরে ওই গৃহবধূর সারা শরীরের সিগারেটেরে ছেঁকা দিয়ে গণধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা না করতে ভিকটিমসহ অপর আহতদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। ঘটনার পর থেকে ভিকটিম তার স্বামী ছেলে, মেয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক চিকিৎসক যুগান্তরকে জানান, গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর দুই, পা ও সারা শরীরে পিটিয়ে জখম করায় রক্ত জমাট হয়ে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া আবশ্যক।

পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পর থেকে ১৩ আসামির মধ্যে ১০ জনকে লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চট্টগ্রাম ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×