রাঙ্গামাটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-গোলাসহ আটক ৪

  রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:০০ | অনলাইন সংস্করণ

অস্ত্র ও গুলিসহ আটককৃতদের দুইজন
অস্ত্র ও গুলিসহ আটককৃতদের দুইজন

রাঙ্গামাটিতে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ চার সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার জেলার রাজস্থলীর গবাছড়ি এবং বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।

আটকরা হলো- মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্য চাচিং মারমা (২৯) ও উংসিংনু মারমা (৩২)। তাদের কাছ থেকে ১টি জি-৩ রাইফেল, ২টি ম্যাগাজিন ও ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে ৯৮০ রাউন্ড এসএমজি (সাব-মেশিনগান) গুলিসহ আটক করা হয়- স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যাজয় ত্রিপুরার ছেলে কর্ণমোহন ত্রিপুরা (২৬) ও মনা ত্রিপুরার ছেলে সাগর ত্রিপুরা (২৮) নামে দুই সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৬টার দিকে রাজস্থলী উপজেলার গবাছড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ এএলপির ওই দুই সদস্যকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। আটক চাচিং মামরা রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া ইউনিয়নের মাঝেরপাড়ার বাসিন্দা সুইচিং মং মারমার ছেলে এবং উংসিংনু মারমা রাজস্থলী উপজেলার বাঙালহালিয়ার কাকড়াছড়ি পাড়ার বাসিন্দা মংরাই মারমার ছেলে।

দুপুরে রাঙ্গামাটি রিজিয়ন সদর দফতরে অস্ত্রসহ আটক দুজনকে স্থানীয় মিডিয়াকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়।

এ সময় আটকদের স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে দায়িত্বশীল সেনাসূত্র জানায়, চাচিং মারমা এএলপির প্রশিক্ষিত সদস্য। সে ২০১৭ সালে মিয়ানমার গিয়ে অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নেয়। উংসিংনু মারমা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা রাজস্থলী উপজেলার কারিগরপাড়া এলাকায় মারমা লিবারেশন পার্টি ও মারমা প্রোগ্রেসিভ পার্টি নাম দিয়ে এএলপির সশস্ত্র অবস্থান গড়ে তোলে চাঁদা আদায় এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।

এ ছাড়া সশস্ত্র দলটি স্থানীয় সাধারণ মারমা সম্প্রদায়ের একটি অংশকে ভুল বুঝিয়ে একটি ছায়া সংগঠন তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত। সশস্ত্র দলটি বিভিন্ন এলাকায় নিজেদেরকে মগ পার্টি নামেও প্রচার করছে। তারা সীমান্ত এলাকায় খুন, গুম, হত্যা, লুণ্ঠন, চাঁদাবাজি চালিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। সূত্র মতে, পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র সংগঠনগুলোর পাশাপাশি নতুন সশস্ত্র সংগঠন হিসেবে তাদের অবস্থান তৈরি হলে হুমকিতে পড়বে নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্র। তাই মারমা প্রোগ্রেসিভ পার্টির সম্ভাব্য অবস্থানের ওপর পর্যায়ক্রমে কার্যকরী অভিযান চালিয়ে পার্বত্য অঞ্চল হতে তাদের বিতাড়িত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরে অস্ত্রসহ আটককৃতদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান রাজস্থলীর চন্দ্রঘোনা থানার ওসি মো. আশরাফ উদ্দিন।

অপরদিকে পৃথক অভিযানে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার পথে গাপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি মোটরসাইকেলসহ দুই সন্ত্রাসীকে আটক করে সাজেক থানা পুলিশ।

এ সময় বাঘাইহাট পুলিশ ক্যাম্পের সামনে আটক দুজনের কাছ থেকে তল্লাশি চালিয়ে ৯৮০ রাউন্ড এসএমজি গুলি উদ্ধার করা হয় বলে জানান রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শফিউল্ল্যাহ।

সাজেক থানার ওসি মো. আনোয়ার জানান, ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ আটকদের থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। মামলার পর তাদেরকে আদালতে চালান দেয়া হবে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×