ভরণপোষণের অভাবে নিঃসন্তান দম্পতির হাতে নবজাতক তুলে দিলেন বাবা

  শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:৩৯:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

নবজাতক।ছবি: যুগান্তর

ভরণপোষণ করতে না পেরে বাবা-মা শিশু ছেলেকে তুলে দিলেন আরেক দম্পতির হাতে। যে দম্পতি নিলেন তাদেরও সন্তান না হওয়ার অভাব পূরণ হয়েছে। অভাব পূরণ ও বিনিময়ের এ ঘটনা ঘটেছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া গ্রামে।

ওই এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোমেন মিয়ার শিশুটির বাবা। শিশুটি ৭ জানুয়ারি রাতে মাওনা চৌরাস্তা সুনীল চন্দ্রের প্রাইভেট ক্লিনিকে ভূমিষ্ঠ হয়। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করা যার পেশা সেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোমেন মিয়ার সংসারে সদস্য সংখ্যা স্ত্রী ও পাঁচ ছেলে মেয়েসহ মোট সাতজন। ভিক্ষা করেই চলে তার সংসার।

শিশুর বাবা মোমেন মিয়ার ভাষ্যমতে, শিশুটির ভরণপোষণ করতে না পারায় নিজ তাগিদ থেকেই তিনি তার শিশু সন্তানকে নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দেন। এতে কোনো লিখিত চুক্তি বা আর্থিক লেনদেন হয়নি। তবে ওই দম্পতি তার বাড়িতে এক বস্তা চাল আর চার হাজার টাকা দিয়ে গেছেন।

শিশুর মা হোসনা বেগম জানান, অভাবের সংসারে ভরণপোষণের ক্ষমতা নেই। আমাদের আরও পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাদেরকে নিয়ে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। তাই আমরা এই সন্তানকে কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়াই নিঃসন্তান দম্পতিকে দিয়েছি।

একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী মাওনা ইউনিয়নের বদনী ভাঙ্গা গ্রামের ছাত্তার মিয়া সন্তানের আশায় পর পর দুটি বিয়ে করেন। কিন্তু তার আশা পূরণ হয়নি। প্রথম স্ত্রী ঢাকার একটি হাসপাতাল থেকে একটি ছেলে শিশু এনে লালন পালন করে আসছেন।

ছাত্তার মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী মিনারা বেগমের সন্তান না হওয়ায় মোমেন মিয়ার শিশুটি লালন পালনের জন্য নিয়ে যান। মিনারা বেগম বলেন, মোমেন মিয়ার আরও পাঁচজন সন্তান রয়েছে। তাদের পরিবারের অনুমতিক্রমেই শিশুটিকে আমার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত