যবিপ্রবি উপাচার্য ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

  যশোর ব্যুরো ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

আদালত প্রাঙ্গনে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল
আদালত প্রাঙ্গনে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি অবমাননা ও ছাত্রলীগের সাবেক নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করায় মানহানি হয়েছে দাবি করে আদালতে দুটি মামলা হয়েছে।

সোমবার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি অভিযোগ করেছেন। বিকালে বিচারক মুহাম্মদ আকরাম হোসেন কোতোয়ালি থানার ওসিকে তদন্ত করে আগামী ১৩ মের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে ছবি অবমাননার অভিযোগে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবিতে করা মামলায় বিবাদী করা হয়েছে উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন ও অনুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদকে।

পাঁচশ’ কোটি টাকার মানহানির মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসানকে বিবাদী করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন দুটি মামলার বাদী আনোয়ার হোসেন বিপুল। তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি পরিকল্পিতভাবে বিকৃত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবির ওপর নিজের নাম লিখে রাখেন ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। আর চলতি বছর আরও ভয়ঙ্করভাবে ডেস্ক ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির উপস্থাপনা করা হয়েছে।

আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ডেস্ক ক্যালেন্ডারের ছবিতে ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন নিজেকে খুব স্মার্টভাবে উপস্থাপন করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ছিদ্র করে দিয়েছেন। একজন বাংলাদেশি হিসেবে, স্বাধীনতার সপক্ষের মানুষ হিসেবে, এ জন্য সাধারণ মানুষ হিসেবে এটাকে মেনে নেয়া যায় না। তাই এর সঙ্গে জড়িত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. আনোয়ার হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তি দাবি করছি। এ জন্য যশোর আদালতে মামলা করেছি।

দুই শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা প্রসঙ্গে আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসান রীতিমতো মিথ্যাচার করে পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েছেন যা ১৩ জানুয়ারি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তারা দাবি করেছেন- মশিয়ুর রহমান হলে আসবাবপত্র সরবরাহ কাজ আমি করেছি। টেন্ডার অনুযায়ী মালামাল সরবরাহ না করে নিম্নমানের পণ্য দেয়া হয়েছে। তাই আপত্তি তুলে বিল আটকে দিয়েছেন ইকবাল কবীর জাহিদ। এ জন্য আমি তাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছি।

তিনি বলেন, প্রকৃত সত্য হচ্ছে, আমি শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে আসবাবপত্র সরবরাহে ঠিকাদারের কাজ করিনি। শুধু এটি নয়, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের ঠিকাদারের সঙ্গে জড়িত নই। ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতা হিসেবে ক্যাম্পাসে নৌকা নামিয়ে ফেলা এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালি দেয়ার কারণ জানতে আমি ইকবাল কবির জাহিদ স্যারের কাছে ফোন করেছিলাম। ওই ফোনে তাকে হুমকি দেয়া তো পরের কথা, আমি উত্তপ্ত কোনো কথাও বলিনি। ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে এই দুই শিক্ষক রীতিমতো আমার মান সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছেন। এ জন্য আমি আজ আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসনের অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের নানা অনিয়মের সিন্ডিকেটর নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ। তাদের শাস্তি দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আকুল হোসাইন, ছাত্রলীগের যশোর শহর শাখার আহ্বায়ক মেহেদী হাসান রনি, চৌগাছা শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হুসাইন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান রাজু, কেশবপুর শাখার আহ্বায়ক কাজী আজাহারুল ইসলাম, সরকারি এমএম কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তরুণ প্রমুখ।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×