যশোরের পল্লীতে অস্ত্র তৈরির কারখানা!

  যশোর ব্যুরো ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, পিস্তল তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজন আটক
আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, পিস্তল তৈরির সরঞ্জামসহ আটক তিনজন

যশোরে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরির কারখানা আবিষ্কার করেছে।

বুধবার দুপুরে যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই কারখানা আবিষ্কার করে।

এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন, পিস্তল তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে কামরুল ইসলাম (৫০), কামরুলের স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা (৩৫) ও ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার নূর হোসেনের ছেলে আবুল বাশার (৪০)। আটক কামরুলের বাড়িতে এই অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়।

আটককৃতদের দাবি, পুলিশের জন্যই অস্ত্র বানায় তারা। ভ্রাম্যমান আদালতের হাতে আটকের পর গণমাধ্যম্যের সামনে হাজির করা হলে তারা এ দাবি করেন।

তবে আটককৃতদের এ দাবি মনগড়া বলে জানিয়েছে পুলিশ। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, আটক অস্ত্র কারবারি দম্পতি চতুর প্রকৃতির। তারা ঘটনার সাথে পুলিশকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেদের বাঁচানোর চেস্টা করছে।

যশোর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামসেদুল আলম ও মোহাম্মদ হাফিজুল হকের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামসেদুল আলম ও মোহাম্মদ হাফিজুল হক জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরে তারা যশোর সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া এলাকায় কামরুলের বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সন্ধান পাওয়া যায়।

তারা জানান, অভিযান কালে ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশীয় পিস্তল, ২টি ম্যাগাজিন, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি খেলনা পিস্তল, বন্দুকের ব্যারেল, লোহার পাতসহ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

একই সঙ্গে ওই বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। জব্দ তালিকার মাধ্যমে আটককৃতদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এদিকে আটককৃতদের সাংবাদিকদের সামনে হাজির করলে কামরুল ও তার স্ত্রী চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন।

কামরুল সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের অন্তত হাফ ডজন দারোগার (উপ পরিদর্শক) অর্ডারেই পিস্তল ও ওয়ান শুটারগান তৈরি করতেন। এতে প্রত্যেকটির মুজরি বাবদ ৫ থেকে ৭ হাজার পর্যন্ত টাকা পেতেন কামরুল। তবে তার তৈরি করা পিস্তল বাইরে কারো কাছেই বিক্রি হয়নি। পুলিশের ভয়-ভীতি ও চাপে পড়েই এ কাজে জড়াতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমার বানানো পিস্তলে গুলি ফোঁটে না। পুলিশ স্যারদের বিশেষ কাজে নাকি ব্যবহৃত হয়।

কামরুল ইসলামের স্ত্রী আটক রাবেয়া সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ স্যারদের সঙ্গে স্বামীর সখ্যতার সুত্র ধরে অনেকেই তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। নিজে ভয় পেয়ে এসব বিষয়ে স্বামীকে বাঁধা দিলে তিনি উল্টো জানাতেন, কোনো সমস্যা হবে না, স্যারেরা দেখবেন।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×