ছেলের বিরুদ্ধে মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

হত্যা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সৎমাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মা রেখা বেগম (৩৫)।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর রাতে জমিসংক্রান্ত সৃষ্ট বিরোধে সৎমাকে সোহেল রানা ওরফে শাহজাহান, তার স্ত্রী, মা সাজেদা বেগম ও বোন আছমা আক্তার ব্যাপক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে সখীপুর ও পরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাবা মীর ওসমান গণি স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে ছেলে সোহেল রানাকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় মামলা করেন।

নিহত রেখা বেগম উপজেলার দাড়িয়াপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিমাবংকী গ্রামের মীর ওসমান গণির স্ত্রী।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মীর ওসমান গণি ও তার আগের স্ত্রী সাজেদা বেগম সংসারের অসচ্ছলতা ঘুচাতে প্রায় ২৫-২৬ বছর আগে একই সঙ্গে মালয়েশিয়া চাকরি করতে যান। মালয়েশিয়ায় মীর ওসমান একটি দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পেয়ে পঙ্গু হয়ে যান। ওসমান দেশে ফিরলেও সাজেদা তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। পরে সে রেখা নামের এক নারীকে বিয়ে করে সংসার পাতেন। তাদের সে ঘরে তিন ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

মীর ওসমান গণি জানান, সোহেল তার আগের ঘরের সন্তান। তার মা সাজেদা বেগমকে বিদেশ পাঠানোর শর্তে তার নামের থাকা ৬৮ শতাংশ জমি আমাকে দলিল করে দেন। সোহেলের দাবি ওই জমি তার মা সাজেদা তাকে ইস্তফা করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ওই জমি ছেলে সোহেল ইস্তফা করে দেয়ার নাম করে দখলে নিতে চেষ্টা করায় ঝগড়ার সূত্রপাত হয়।

দুই সতীন, বাবা ওসমান গণি ও ছেলে সোহেল মিলে জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধে ঘটনার রাতে কথাকাটাকাটিতে নিহত রেখা বেগমকে তলপেটসহ বেদম মারধর করা হয়। আহত হওয়ার দুই মাস ৫ দিনপর বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা বেগম মারা যান। মীর ওসমান গণি বলেন, স্ত্রীকে সুস্থ করতে অনেক টাকা গেলেও বাঁচাতে পারলাম না। আমি একজন পঙ্গু মানুষ, রোজগার করতে পারি না। স্ত্রীই সংসারের হাল ধরেছিল। অবুঝ তিন ছেলেসন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় দাঁড়াব।

এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ওসি মাকছুদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে আগেই মামলা করা আছে। হাসপাতালের সাধারণ জখমের রিপোর্ট পেয়ে ওই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন। শুক্রবার দুপুরে লাশ টাঙ্গাইল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপরই মামলার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×