ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে মনোয়ারাকে খুন করে ভাগনে

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

গলা কেটে খুন
গলা কেটে খুন (প্রতীকী ছবি)

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রবাসীর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে হত্যার রহস্য উৎঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দুর্বল করার পর গলা কেটে মনোয়ারা বেগমকে খুন করে ভাগনেসহ ৩ জন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মনোয়ারা বেগমের বোনের ছেলে, ভাইয়ের স্ত্রী ও ভাইয়ের স্ত্রীর ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা তিনজনেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গত ১ জানুয়ারি সকালে বাসাইল উপজেলার নথখোলা গ্রামের সৌদি প্রবাসী ধলা মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের (৩৭) গলাকাটা লাশ নিজ বাড়ির থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নিহত মনোয়ারার ভাই আবদুল কাদেরের স্ত্রী তাসলিমা খাতুন (২৮) বাদী হয়ে বাসাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

মামলাটি প্রথমে বাসাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে এর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে।

গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (দক্ষিণ) শ্যামল কুমার দত্ত জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মামলার বাদী তাসলিমা খাতুনের জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহ হয়। পরে সোমবার নিহত মনোয়ারা বেগমের আপন বোনের ছেলে রহিম মিয়া (২৬), তাসলিমা খাতুন (মনোয়ারা বেগমের ভাই আবদুল কাদেরের স্ত্রী) ও তাসলিমা খাতুনের ভাই আল আমিনকে (১৯) আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের তারা মনোয়ারা বেগমকে জবাই করে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

তারা জানান, তাসলিমার সঙ্গে আবদুর রহিমের পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে। মাদকাসক্ত আবদুর রহিম মাঝে মাঝেই তাসলিমার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিত। তাসলিমা মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে টাকা নিয়ে রহিমকে দিত। এতে মোটা অঙ্কের টাকা মনোয়ারা বেগমের কাছে ঋণ হয়ে যায়। তাই তারা মনোয়ারাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে গিয়ে কৌশলে তাকে কোমল পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মনোয়ারা বেগমকে দুর্বল করা হয়। পরে তারা তার হাত-পা বেঁধে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা করে এবং হাত পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চত করে টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন। পরে তারা তিনজনেই আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

মঙ্গলবার দুপুরের পর তিনজনকে টাঙ্গাইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তাদের পৃথক পৃথক আদালতে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামসুল আলম জবানবন্দি গ্রহণ করেন আব্দুর রহিমের। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাসুম জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন তাসলিমা খাতুনের। আর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম লিপিবদ্ধ করেন আল আমিনের জবানবন্দি। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×