বাঞ্ছারামপুরেও ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা!

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

বাঞ্ছারামপুরেও ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা!
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: যুগান্তর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে এবারের বাংলা প্রথম পত্রের পরিবর্তে ২০১৮ সালের পুরাতন প্রশ্নপত্রে ১১৩ জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে একটি কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্নপত্রে ৪৮ জন শিক্ষার্থীর বাংলা প্রথম পত্রের এসএসসি পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। অপরদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়েও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল মো. মনশুর আলী উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে একই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ২০ মিনিট পর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

শনিবার বাঞ্ছারামপুর এস এম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানান পর পরীক্ষার্থীরা ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এখানে এসে হাউমাউ করে কেঁদেছেন ওইসব পরীক্ষার্থী। এ ঘটনা তদন্ত করতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল এপিসি স্কুল কেন্দ্রে এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব সুখলাল বাইনকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর নতুন প্রশ্নপত্রে ওই শিক্ষার্থীদের ফের পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহীন জানান, ২০১৯ সালের প্রশ্নপত্র বণ্টনের প্রায় তিন ঘণ্টা পর বিষয়টি সবার নজরে আসে। যশোর শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে পরে তাদের নতুন বছরের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।

অপরদিকে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এনএএম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা ভুল প্রশ্নে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা দেয়। সোনারগাঁ জিআর ইন্সটিটিউশনের ২০ জন পরীক্ষার্থী তাদের বহুনির্বাচনী পরীক্ষা ভুল প্রশ্ন পত্রে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার বাঞ্ছারামপুর এস এম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় বাঞ্ছারামপুর-১ কেন্দ্রে এক হাজার ৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। শনিবার বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় ১১৩ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল ২০১৮ সালের পুরাতন প্রশ্ন বিতরণ করা হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারলে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়।

এ বিষয়টি তদন্ত করতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদকে আহ্বায়ক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুরুভী আফরোজ ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে সদস্য করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না কারার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আমরা আগের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে বিষয়টি জানালেও আমাদের কথা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। পরে ইউএনও স্যারের কাছে গেলে স্যার বোর্ডের চেয়ারম্যান সারের সঙ্গে কথা বলেছেন আমাদের বিষয়ে। আমরা এখন চিন্তিত। আমাদের কী হবে এটা ভেবে। যারা এমন করেছেন তাদের শাস্তি চাই আমরা।

বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাধন শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আতিকুর রহমান জানান,‘বোর্ড থেকে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা ৭ জন প্রশ্নগুলো দেখেছি। কিন্তু কীভাবে তারপরও ২০১৮ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হলো এটা বুঝতে পারছি না। সৃজনশীলে ৪৩ জনকে আমরা শনাক্ত করেছি। রোববার নিশ্চিত হতে পারব কতজনের মাঝে ১৮ সালের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছে।’

বাঞ্ছারামপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জানান,‘এস এম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪৩ জন শিক্ষার্থী বাংলার সৃজনশীল ও তারও বেশি বহুনির্বাচনী বিষয়ে ২০১৮ সালের প্রশ্নের পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেক পরীক্ষার্থী আমার বিদ্যালয়ের।’

এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তৌহিদ বলেন, ‘এস এম পাইলট সারকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০১৮ সালের প্রশ্ন দিয়ে বাংলা বিষয়ে বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। অনেকে ইউএনও স্যারের কাছে এসেছিল। স্যার আমাকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলেছেন।’

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘এস এম পাইলট কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র বিষয়ে সৃজনশীল ৪৩ জন ও বহুনির্বাচনী ৭০ জন ২০১৮ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই আমার কাছে এসেছিল। আমি তাৎক্ষণিক বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছি বিষয়টি নিয়ে। আমি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এ বিষয়টি তদন্ত করার জন্য।’

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×