রাজশাহীতে সারা বছর আলোচনায় ছিল মডেল রাউধা

  যুগান্তর ডেস্ক    ৩১ ডিসেম্বর ২০১৭, ২১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

রাউধা

রাজশাহীতে সারা বছর জঙ্গি অভিযান এবং প্রকাশ্যে দিবালোকে ছিনতাইয়ের ঘটনার পাশাপাশি আলোচনায় ছিল মডেল রাউধা আথিফের আত্মহত্যা।

মালদ্বীপের মডেল কন্যা রাউধা আথিফের মৃত্যুর ঘটনাটি বছরজুড়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। রাউধার মৃত্যুর ঘটনাটির তদন্ত শেষ না হওয়ায় এ বিষয়টির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।

রাউধার মৃত্যু আত্মহত্যা না কী- পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তার সমাধান হয়নি এখনও। তদন্ত আর পুনঃতদন্তের ঘটনায় ঘুরপাক খাওয়ায় বিষয়টির প্রতি সাধারণ মানুষের কৌতুহল ছিল অনেক বেশি। এ কৌতুহল এখনও রয়েছে।

চলতি বছরের শেষে এসে এ মামলাটির পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে। এর রেশ হয়তো চলবে চলতি বছরেও।

গত ২৯ মার্চ দুপুরে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার লাশ উদ্ধার করা হয়। তখন পুলিশ জানিয়েছিল, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে রাউধা আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তার সহপাঠী সিরাত পারভীন মাহমুদ রাউধার ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই এই মৃত্যুর রহস্য নিয়ে সবাই আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

মালদ্বীপের নাগরিক রাউধা আথিফের জন্ম ১৯৯৬ সালে ১৮ মে। তিনি এমবিবিএস দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাউধা পড়ালেখার পাশাপাশি মডেলিং করতেন। ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে বিশ্বখ্যাত ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের ভারতীয় সংস্করণের প্রচ্ছদে প্রকাশিত ছবির পাঁচ মডেলের সঙ্গে রাউধাও ছিলেন।

৩১ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাউধার প্রথম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। বারিন্দ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ওই ময়নাতদন্ত করে। ওই ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রাউধা ‘গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন’ বলে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়াও রাউধার কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলা হয়। কিন্তু রাউধার বাবা ডা. মোহাম্মদ আথিফ দাবি করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

এই দাবিতে তিনি ১০ এপ্রিল রাজশাহীর আদালতে হত্যামামলা দায়ের করেন। ১৪ এপ্রিল মামলাটি শাহ মখদুম থানা থেকে সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের অনুমতি পেতে আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। গত ১৮ এপ্রিল আদালত লাশ উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের অনুমতি দেয়।

৩০ মার্চ রাউধার লাশ দেখতে রাজশাহীতে আসেন মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত আয়েশাথ শান শাকির এবং তার মা-বাবাসহ পরিবারের ১১ সদস্য। ৩১ মার্চ তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের মাধ্যমে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরের দিন রাউধা আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় মেডিকেল বোর্ড। ওই দিনই রাজশাহীর হেতেমখা গোরস্থানে পরিবারের সদস্যের উপস্থিতিতে রাউধার দাফন সম্পন্ন হয়।

রাউধা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে ফের দাবি করেন তার বাবা ডা. আথিফ। রাউধার চিকিৎসক বাবা তার মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

পরে ১৭ অক্টোবর রাউধাকে হত্যা করা হয়নি, তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। এর আগে দুই দফার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনেও বলা হয়েছিল মালদ্বীপের এই মডেল আত্মহত্যা করেছিলেন।

রাজশাহী মহানগর জজ আদালতের পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি। রাউধাকে হত্যা করা হয়েছিল, এমনটিও বলা হয়নি। তাই বাদীপক্ষের আইনজীবী এই প্রতিবেদনে নারাজি দিয়ে বিচারক মাহবুবুর রহমানের কাছে সময় প্রার্থনা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ওসি আসমাউল হকও বলেছিলেন, দুই দফা ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও মোবাইলফোন পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েই রাউধা আত্মহত্যা করেছিলেন বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। প্রেমে ব্যর্থ হয়েই রাউধা আত্মহত্যা করেন। মালদ্বীপের শাহী গণি নামে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

সর্বশেষ গত ২৪ ডিসেম্বর মডেল কন্যা রাউধার হত্যা মামলাটি পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রাজশাহীর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল আরিফ বলেন, সম্প্রতি আদালত থেকে মামলার কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। এরপর পরিদর্শক আলমগীর হোসেনকে মামলাটি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত শুরু করেছেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তা ওই দিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×