বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর ছবি কথা বলে!

  পবিত্র তালুকদার, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি আঁকছে বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাস
ছবি আঁকছে বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাস

বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাস। কখনও তার শেখা হয়নি অংকন শিক্ষা। দেখে বোঝার উপায় নেই শুধুমাত্র চোখের দেখায় প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণীজনের ছবি। যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিণী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয় মিতু। তবে মঙ্গলবার সেই অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে আবারও পরীক্ষা দেয় সে। তবে অসাধারণ প্রতিভাবান ও মেধাবী এই তরুণীর ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা!

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উঠোনে বসে আর্টপেপারে ছবি আঁকছে মিতু। কথা বলার প্রবল আকুতি তার! তার বোঝানোর ক্ষমতা বা দক্ষতা সাধারণ অন্য মেয়েদের চেয়েও বেশি। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ছবি দেখে নিজে নিজেই আঁকা শেখে মিতু।

সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা। তবে মিতুর একটি ভাতার কার্ডের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে বাবা-মা ধরনা দিয়েছেন বহুবার। তবে মেলেনি কোনো সহযোগিতা!

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে হয়। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দারিদ্র্যতার কশাঘাতে জর্জরিত কুটিশ্বর দাস শত কষ্টের মাঝে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শিখিয়েছেন।

বাবা কুটিশ্বর ও মা সুমিত্রা রানী দাস এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বড় মেয়ের পর ছোট মেয়েও (মিতু) বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেয়ায় খুব ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু বড় হওয়ার পর তাকে (মিতু) স্কুলে ভর্তি করে দেই। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় মিতু ছবি দেখে হুবহু আঁকতে শুরু করে। ভেবেছিলাম প্রাইমারি পাস করলে আর পড়াব না। কিন্তু মেয়ের প্রবল আগ্রহ দেখে বাধা দেইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের ভাতার কার্ডের জন্য বেশ কয়েকবার চেয়ারম্যানকে বলেছি। সমাজসেবা অফিসেও গিয়েছি। কিন্তু কোথাও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।’

চাটমোহর শিল্পকলা একাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক দাস যুগান্তরকে বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর আঁকানো চিত্রকর্ম দেখে আশ্চর্য হয়েছি। এটা ঈশ্বর প্রদত্ত ব্যাপার। মিতু কথা বলতে না পারলেও মনে হয় তার ছবি কথা বলে। না শিখেই মিতুর মধ্যে যে প্রতিভা আছে এর আগে কোথাও দেখিনি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মিতু অনেক দূর পৌঁছাবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমারকে মিতুর ব্যাপারে জানানো হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর চিত্রকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেয়ার পাশাপাশি, মিতুর সুপ্তপ্রতিভা যেন বিকশিত হয় সে দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন থেকে নেয়া হবে।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×