মৌমাছির বন্ধু শ্রীমঙ্গলের মধু কামাল

  শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

মৌমাছির বন্ধু শ্রীমঙ্গলের মধু কামাল
মৌমাছির বন্ধু শ্রীমঙ্গলের মধু কামাল

যেখানে মৌমাছিরা দলবদ্ধ থেকে বিস্তার করে বাসা বাঁধে সেখানেই কামাল নামের এক ব্যক্তিকে খুঁজে বেড়ায় এলাকার লোকজন। মৌমাছির বাসায় যদি কেহ নাড়াচাড়া করে তাহলে তারা উড়ে উড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যায় অনেক সময় লোকজনকে কামড় দিয়ে আহতও করে।

কিন্তু যত বড়ই মৌমাছির চাক থাকুক না কেনো মধু কামালের কাছে যেন মৌমাছিরা নত হয়ে তার কাছে আশ্রয় নেয়। তার গায়ে মৌমাছিরা দলবদ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ালেও হুল ফুটায় না। তিনি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সীমান্তবর্তী সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের ইজরাগাঁও গ্রামের মৃত কনর মিয়া ছেলে। এলাকার লোকজন তাকে মধু কামাল বলেই ডাকে।

দীর্ঘদিন থেকে তিনি বিভিন্ন জায়গায় মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। তার মধু সংগ্রহের পদ্ধতি দূর থেকে দেখতে বেশ ভয়ংকর বটে, তবে কাছ থেকে দেখলে মনে হবে মৌমাছিগুলো তার একান্ত বন্ধু!

মৌমাছিরা তার মুখ, মাথাজুড়ে বসে থাকে। মৌমাছিরা তাকে কামড়ায় না, কোনো উৎপাত করে না। ডাক আসলে ছুটে যান দূর-দূরান্তে, একান্তই সখের বশে তিনি নিজেকে এখন ব্যস্ত রাখছেন এ পেশায়।

কামাল সম্পর্কে ইজরাগাঁও গ্রামের ফুরুক মিয়া জানান, কামালের মধু সংগ্রহ পদ্ধতি একেবারেই ব্যতিক্রম। তিনি অনেক দিন ধরে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। মৌমাছিরা তার একান্তই বন্ধুর মতো। শুরুতে মৌচাক, বলারচাক ভাঙতে গিয়ে তিনি আহত হয়েছেন। এখন চাক ভাঙার সময় তাকে মৌমাছিরা কামড়ে আহত করে না। এলাকার লোকজন কোথাও মৌচাক দেখলে তাকে খবর দিয়ে মধু সংগ্রহ করিয়ে থাকেন।

সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের কুঞ্জবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডা. একরামুল কবীর বলেন, মধু কামাল অনেক সাহসী। মধু সংগ্রহকালে দেখা যায় তার গায়ে এসে মৌমাছিরা আপস মেনে নেয়। সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। সারা গ্রামে কামাল মিয়া মধু সংগ্রহ করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সে এ পেশায় নিয়োজিত আছে।

এ ব্যাপারে মধু সংগ্রহকারী কামাল মিয়া জানান, তিনি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এ পেশায় আছেন। শষ্য, লিচু, বরইসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের মধু নিজ হাতে যত্নসহকারে সংগ্রহ করে বিক্রয় করে থাকেন।

মৌমাছিরা কেন তার এত আপন, তারও ব্যাখ্যা দেন কামাল। তিনি বলেন, মৌমাছিরা যেভাবে পোষ মানে আমিও সে কৌশলই নিয়ে থাকি। তিনি অন্য কোনো মেডিসিন বা কোনো প্রকার প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রথম প্রথম মৌমাছিড়া কামড় দিলেও এখন আর কামড় দেয় না। তার কৌশলে মৌমাছিরা তার কাছে পোষ মেনে গায়ে এসে বসে থাকে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×