বিজিবির গুলিতে নিহত ৩, প্রতিবাদে উত্তাল ঠাকুরগাঁও

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

বিজিবির গুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় মানববন্ধন
বিজিবির গুলিতে তিনজন নিহতের ঘটনায় মানববন্ধন

বিজিবির গুলিতে ৫ম শ্রেণির ছাত্রসহ তিনজন নিহত ও কয়েকজন আহতের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ঠাকুরগাঁও। এদিকে নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।

তিন দিনেও থামছে না স্বজনদের আহজারি। কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে গোটা এলাকা। ক্ষোভে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকার মানুষ।

সোমবার জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর ও রুহিয়া গ্রামে গরু জব্দ করা নিয়ে সংঘর্ষে বিজিবির গুলিতে এলাকার চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জয়নুল, দিনাজপুর সরকারি কলেজের মাস্টার্স ক্লাসের ছাত্র নবাব ও কৃষক সাদেক আলী নিহত হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ হয়েছে নারী ও এসএসসি পরীক্ষার্থী আবুল কাশেমসহ ১৬ জন। তাদের ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল, দিনাজপুর ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় তাদের দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।

এদিকে মেধাবী ছাত্র নবাব ও স্কুলছাত্র জয়নুলসহ এই তিনজনের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়ছে এলাকার হাজারো মানুষ। গ্রাম থেকে উপজেলা ও জেলা শহরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ প্রতিবাদ করছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এ কর্মসূচিতে কৃষক-শ্রমিক, ছাত্রসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেয়।

বকুয়া ইউপির ২নং ওয়ার্ড সদস্য আবদুস সাত্তার বলেন, বিজিবির গুলিতে নিহত গরিব কৃষক সাদেক আলী তার বড় মেয়ে স্মৃতির বিয়ের অনুষ্ঠানের টাকা জোগাতে বাড়ির পোষা গরু বিক্রি করতে যাচ্ছিল। যাওয়ার পথে বিজিবির গুলিতে নিহত হয়েছেন তিনি। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। সবাই পড়াশোনা করে। নিহত সাদেক একজন বর্গাচাষি। রুহিয়া গ্রামে নজরুল ইসলামের ছেলে নবাবের ইচ্ছা ছিল শিক্ষক হওয়ার। কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না হওয়ায় বাড়িতে খুলেছিল কোচিং সেন্টার।

নবাবের ছোট ভাই সুজা বলেন, আশপাশের চার গ্রামের ছেলেমেয়েরা তার ভাইয়ের কোচিং সেন্টারে পড়ত।

এই কোচিংয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী জোতি কেঁদে বলেন, আমাদের স্যারকে হত্যা করা হয়েছে। এখন কে পড়াবে আমাদের?

বহরমপুর গ্রামের নুর ইসলামের একমাত্র ছেলে জয়নুল। ছাত্র হিসেবে ভালো ছিল। তাকে হারিয়ে মা জহুরা বেগম নির্বাক বনে গেছেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ দাফনের জন্য প্রতি পরিবারে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তবে আহতদের সাহায্যে এখন কেউ এগিয়ে আসেনি পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এমজে আরিফ বেগ বলেন, আপাতত লাশ দাফনের জন্য আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে পরিবারগুলোকে। পরবর্তী আর ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীলাব্রত কর্মকারকে প্রধান করে ৭ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ভাষাসংগ্রামী রফিক, সালাম বরকতসহ কয়েকজনের মৃত্যুতে গোটা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বিজিবির গুলিতে তিনজনের নিহতের ঘটনায়।

এ বিষয়টি তিনি বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেছেন বলে জানান এই সংসদ সদস্য।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×