বানারীপাড়ায় পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা
jugantor
বানারীপাড়ায় পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা

  এসএম গোলাম মাহমুদ রিপন, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি  

১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:২৭:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা
পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা

বানারীপাড়ায় বাবা-মায়ের বসবাস ২৫-৩০ বছর হলেও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত বেদে শিশুরা এবার পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে।

জন্মের পর থেকেই বাবা-মাকে সন্ধ্যা নদী থেকে ইলিশ মাছ ধরতে দেখে আসা এসব শিশু পুলিশের সহায়তায় এখন থেকে অন্য সব শিশুদের মতো চলাফেরা করার পাশাপাশি নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে।

জানা গেছে, ২৫-৩০ বছর ধরে বেদেরা পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের ফেরিঘাট ও ২নং ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট সংলগ্ন মহিষাপোতা এলাকা বসবাস করার পাশাপশি ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বেদে পল্লীর শিশুদের স্কুলগামী করতে এর আগে শিক্ষকরা কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ফলে বেদে পল্লীর শিশুরা স্কুলগামী অন্যসব শিশুর মতো বেড়ে ওঠেনি।

শিক্ষার আলো বঞ্চিত বেদে পল্লীর শিশুরা স্থানীয় শিশুদের চেয়ে চালচলনে অনেকটা আলাদা। বেদে পল্লীর শিশুরা নিয়মিত নদীতে হাবুডুবু হওয়ার পাশাপশি তারা খালি পায়ে চলাফেরা করে এবং ছেঁড়া ও পুরাতন জামাকাপড় পড়ে। তারা একপ্রকার যাযাবরের মতো দিন কাটায়।

অপরদিকে বেদে পল্লীর শিশুরা আর্থিকভাবে অভাব অনটনের মধ্যে বড় হওয়ার পাশাপশি এসব শিশুরা একটু বুঝে ওঠার আগেই তাদের অভিভাবকরা জাল-নৌকা তৈরি করে দিয়ে ইলিশ মাছ ধরতে সন্ধ্যা নদীতে নামিয়ে দেয়। বাবা-মায়ের পথ ধরে এসব শিশুরা সন্ধ্যা নদী থেকে ইলিশ মাছ দরে বাজারে বিক্রি করে।

এসব শিশুরা টাকা আয় করার নেশায় কিছু দিনের মধ্যেই আবার বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সন্ধ্যা নদী থেকে ইলিশ ধরার কাজ শুরু করে। বাবা-মায়ের পথ ধরে এসব শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়।

শিক্ষার আলো বঞ্চিত এসব শিশুদের স্কুলগামী করতে সম্প্রতি বানারীপাড়া থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেন।  তার পরামর্শে থানার এএসআই জাহিদ হোসেন এলাকার বেদে সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাদের শিশুদের স্কুলগামী করার পাশাপাশি সরকারি সহায়তা বাদে নিজ অর্থে স্কুল ড্রেস, জুতা ও কসমেটিস কিনে দেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলোবঞ্চিত এসব শিশুরা শনিবার থেকেই বানারীপাড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে ক্লাস শুরু করেছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মানুষের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী এএসআই জাহিদ হোসেন জনবান্ধব হিসেবে তার দায়িত্বপালন করেছেন।

বানারীপাড়ায় পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা

 এসএম গোলাম মাহমুদ রিপন, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি 
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:২৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা
পুলিশের সহায়তায় স্কুলে যাচ্ছে বেদে শিশুরা

বানারীপাড়ায় বাবা-মায়ের বসবাস ২৫-৩০ বছর হলেও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত বেদে শিশুরা এবার পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে।

জন্মের পর থেকেই বাবা-মাকে সন্ধ্যা নদী থেকে ইলিশ মাছ ধরতে দেখে আসা এসব শিশু পুলিশের সহায়তায় এখন থেকে অন্য সব শিশুদের মতো চলাফেরা করার পাশাপাশি নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে।

জানা গেছে, ২৫-৩০ বছর ধরে বেদেরা পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ডের ফেরিঘাট ও ২নং ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট সংলগ্ন মহিষাপোতা এলাকা বসবাস করার পাশাপশি ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বেদে পল্লীর শিশুদের স্কুলগামী করতে এর আগে শিক্ষকরা কোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। ফলে বেদে পল্লীর শিশুরা স্কুলগামী অন্যসব শিশুর মতো বেড়ে ওঠেনি।

শিক্ষার আলো বঞ্চিত বেদে পল্লীর শিশুরা স্থানীয় শিশুদের চেয়ে চালচলনে অনেকটা আলাদা। বেদে পল্লীর শিশুরা নিয়মিত নদীতে হাবুডুবু হওয়ার পাশাপশি তারা খালি পায়ে চলাফেরা করে এবং ছেঁড়া ও পুরাতন জামাকাপড় পড়ে। তারা একপ্রকার যাযাবরের মতো দিন কাটায়।

অপরদিকে বেদে পল্লীর শিশুরা আর্থিকভাবে অভাব অনটনের মধ্যে বড় হওয়ার পাশাপশি এসব শিশুরা একটু বুঝে ওঠার আগেই তাদের অভিভাবকরা জাল-নৌকা তৈরি করে দিয়ে ইলিশ মাছ ধরতে সন্ধ্যা নদীতে নামিয়ে দেয়। বাবা-মায়ের পথ ধরে এসব শিশুরা সন্ধ্যা নদী থেকে ইলিশ মাছ দরে বাজারে বিক্রি করে।

এসব শিশুরা টাকা আয় করার নেশায় কিছু দিনের মধ্যেই আবার বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সন্ধ্যা নদী থেকে ইলিশ ধরার কাজ শুরু করে। বাবা-মায়ের পথ ধরে এসব শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়।

শিক্ষার আলো বঞ্চিত এসব শিশুদের স্কুলগামী করতে সম্প্রতি বানারীপাড়া থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তার পরামর্শে থানার এএসআই জাহিদ হোসেন এলাকার বেদে সম্প্রদায়কে বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাদের শিশুদের স্কুলগামী করার পাশাপাশি সরকারি সহায়তা বাদে নিজ অর্থে স্কুল ড্রেস, জুতা ও কসমেটিস কিনে দেন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার আলোবঞ্চিত এসব শিশুরা শনিবার থেকেই বানারীপাড়া বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে ক্লাস শুরু করেছে।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ওসি মো. খলিলুর রহমান ও পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ মানুষের বন্ধু ও সেবক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সে অনুযায়ী এএসআই জাহিদ হোসেন জনবান্ধব হিসেবে তার দায়িত্বপালন করেছেন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন