চাটমোহরে সেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

চাটমোহরে সেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার
চাটমোহরে সেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার

যুগান্তর অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর পাবনার চাটমোহরের সেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাসের পড়াশোনা ও অংকন শেখার দায়িত্ব নিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামে মিতু রানীর বাড়িতে গিয়ে আর্টপেপারে বিভিন্ন ছবি আঁকানো দেখে আপ্লুত হন ইউএনও।

শুধু তাই নয়, মিতুকে অতি সম্প্রতি একটি ভাতার কার্ড করে দেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান মো. মকবুল হোসেন, চাটমোহর শিল্পকলা একাডেমির অংকন শিক্ষক মানিক কুমার দাসসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে ‘বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর ছবি কথা বলে!’ শিরোনামে গত ১২ ফেব্রুয়ারি যুগান্তর অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ইউএনও সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘যুগান্তর অনলাইনে খবরটি দেখার পর থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী মিতুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব ছিলাম। মিতুর চিত্রকর্ম সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার জন্য ভাতার কার্ড করে দেয়ার পাশাপাশি, মিতুর সুপ্তপ্রতিভা বিকশিত করতে এবং তার পড়াশোনায় যেন কোনো ব্যাঘাত না হয় এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

উল্লেখ্য, বাকপ্রতিবন্ধী মিতু রানী দাসের কখনও শেখা হয়নি অংকন শিক্ষা। দেখে বোঝার উপায় নেই শুধুমাত্র চোখের দেখায় প্রতিনিয়ত এঁকে চলেছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ নানা গুণীজনের ছবি। যা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধূলাউড়ি ঘোষপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক কুটিশ্বর ও গৃহিণী সুমিত্রা রানী দাস দম্পতির ছোট মেয়ে মিতু। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় আইসিটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয় মিতু। সেই অকৃতকার্য হওয়া বিষয়ে চলতি বছরে আবারও পরীক্ষা দেয় সে। তবে অসাধারণ প্রতিভাবান ও মেধাবী এই তরুণীর ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভাতা! সংসারে অভাব থাকলেও মেয়ের এমন আগ্রহ ও প্রতিভা দেখে বাধা হয়ে দাঁড়াননি বাবা-মা।

চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট মিতু। বড় বোন রেপা রানী দাসও বাকপ্রতিবন্ধী। অনেক কষ্টে তার বিয়ে দিয়েছেন বাবা-মা। মেজ বোন রিতা মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে হয়। বড় ভাই রিপন কুমার দাস ঢাকার একটি কলেজে পড়াশোনা করে। দারিদ্র্যতার কশাঘাতে জর্জরিত কুটিশ্বর দাস শত কষ্টের মাঝেও মিতুকে উৎসাহ দিয়ে গেছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×