মনিরামপুরে জমির জন্য বোনকে কুপিয়ে খুন

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের মনিরামপুরে জমাজমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ভাই আবদুর রহিম গাছি দা (খেজুর গাছ কাটা দা) দিয়ে কুপিয়ে বোন নুরজাহান বেগমকে (৫৬) হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার বিকালে পৌর এলাকার বিজয়রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা রহিমকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশ রহিমকে আটকসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করে।

নুরজাহান উপজেলার গালদা গ্রামের আলা উদ্দীনের স্ত্রী। আর রহিম পৌর এলাকার বিজয়রামপুর গ্রামের এনায়েত আলীর ছেলে।

ঘটনা শুনে এ প্রতিবেদক ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন তখনো নূরজাহান বাড়ির উঠানে পড়েছিলেন। এ সময় তিনি যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। একপর্যায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় নূরজাহানকে মনিরামপুর হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

রহিমের স্ত্রী সালমা জানায়, ঘটনার দিন সকালে তার ননদ নূরজাহান বাড়িতে বেড়াতে আসে। দুপুরের খাবারের পর ভাইবোনের সঙ্গে জমাজমি নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায় ননদ বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে রাস্তায় উঠলে তাকে ধরে নিয়ে আসে স্বামী রহিম। এরপর ঘরে থাকা দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। পরে তিনি ঠেকাতে গেলে তাকেও দা নিয়ে কোপাতে উদ্যত হলে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।

তিনি জানান, তার স্বামী আগে থেকেই হিংস্র ধরনের। এর আগে তুচ্ছ ঘটনায় তার বাবাকে (রহিমের শ্বশুর) দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু সেবার তার বাবা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতের শরীরের ৬টি জখমের চিহ্নসহ মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম এনামুল হক জানান, খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবদুর রহিমকে আটক করা হয়েছে। তবে জমাজমি বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।