বাগেরহাটে ১৪০ কেজির মেটেআলু!

  বাগেরহাট প্রতিনিধি ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বাগেরহাটে ১৪০ কেজির মেটেআলু
বাগেরহাটে ১৪০ কেজির মেটেআলু

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা গ্রামের মেটেআলু চাষে অর্ধশতাধিক চাষি ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ আর হাতে কলমে প্রশিক্ষণ নিয়ে জমিতে চাষ করে এক-একটি মেটেআলুর ওজন ১০০ থেকে ১৪০ কেজি হয়েছে।

ইতিমধ্যে এই এলাকার উৎপাদিত মেটেআলু ঢাকায় জাতীয় কৃষিমেলায় ‘দেশসেরা’ নির্বাচিত হয়েছে।

ফকিরহাট উপজেলা বেতাগা গ্রামের কৃষক প্রকাশ চন্দ্র দাশ গত তিন বছর আগে মেটেআলুর চাষ শুরু করেন। তার এই চাষ করা আলুর মধ্যে একটি মেঠেআলুর ওজন হয়েছে ১৪০ কেজি।

ফকিরহাট কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত উৎপাদিত একক মেটেআলু হিসেবে যা বিরল ও সর্ববৃহৎ।

এলাকায় কৃষক প্রকাশ চন্দ্র দাশের সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও অধিক লাভজনক মেটেআলুর চায় শুরু করেছেন। প্রকাশ দাশ ছাড়াও একই গ্রামের মনি মোহন দাশ, কার্ত্তিক চন্দ্র দাশ, কংকর চন্দ্র দাশ ও অমল চন্দ্র দাশসহ অর্ধশতাধিক কৃষক মেটেআলুর চাষ করে ব্যাপক সফলতা লাভ করেছেন।

সফল মেটেআলু চাষি প্রকাশ চন্দ্র দাশ জানান, সাধারণত বাগানে ছায়ার মধ্যে কোনো সবজি বা ফসল হয় না। তাই পরিত্যক্ত জমিতে গর্ত খুঁড়ে মেটেআলু রোপণ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি মেটেআলু বাজারে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। তার উৎপাদিত একটি মেটেআলুর ওজন হয়েছে ১৪০ কেজি। যা ঢাকায় জাতীয় কৃষিমেলায় ‘দেশসেরা’ নির্বাচিত হয়েছে।

অন্যান্য সবজির তুলনায় মেটেআলু উৎপাদনে ঝুঁকি ও রোগবালাই অত্যন্ত কম। বাগানের মধ্যে বিঘাপ্রতি মেটোআলু গড় ফলন ৪ টন হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে হাতেকলমে শিক্ষা নিয়ে মেটে আলু চাষ করে তিনি সাফল্য পেয়েছেন তিনি বলে জানান।

ফকিরহাট উপজেলা কৃষি অফিসার ও পাচিং পদ্ধতির প্রর্বতক মো. নাছরুল মিল্লাত জানান, মেটেআলুর চাষ করতে গেলে প্রথমে ৩ ফুট চওড়া ও ৪ ফুট আড়ে এবং আড়াই ফুট গভীর করে একটি বড় গর্ত করতে হবে। তারপর তাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছাই এবং ১ কেজি পটাশ, ১ কেজি ইউরিয়া ও ২ কেজি টিএসপি সার দিয়ে গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাট করে ১ মাস ফেলে রাখতে হবে।

তিনি জানান, এক মাস পর ওই গর্তে ১টি মেটেআলুর বীজ পুঁতে দিতে হবে। বীজ থেকে চারা গজালে সেই গাছটি অন্য কোন গাছে উঠিয়ে দিতে হবে। গাছটির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে পরিমাণ মতো মাটি ও কিছু জৈব সার দিয়ে গর্তের চারপাশে কিছু আবর্জনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।

মো. নাছরুল মিল্লাত জানান, গত বছর যেসব কৃষক নিয়মানুযায়ী মেটেআলুর চাষ করেছিলেন, মাত্র ১ বছরে তাদের মেটেআলু ১০০ থেকে ১৪০ কেজি ওজন হয়েছে।

প্রথমে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে কৃষক প্রকাশ চন্দ্র দাশ অধিক লাভজনক মেটেআলুর চাষ শুরু করলেও মাত্র ৩ বছরের মধ্যে মেটেআলু চাষির সংখ্যা অর্ধশতাধিক ছাড়িয়ে গেছে।

মানুষের শরীরের পুষ্টিহীনতা দূর করতে ও সবজির ঘাটতি মেটাতে পরিত্যক্ত জমিতে সাঠিক ব্যবহার করতে বিষমুক্ত সবজি পেতে ও কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা আনতে বিশেষ অবদান রাখছে মেটেআলু।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×