মুকসুদপুরেই কলা গাছ দিয়ে তৈরি করা শহীদ মিনার!

প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  টেকেরহাট (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

কলাগাছের প্রতীকী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে মুকসুদপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

বিদ্যালয়ে স্থায়ী শহীদ মিনার না থাকায় নিজেদের হাতে তৈরি করা কলাগাছের প্রতীকী শহীদ মিনারেই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে মুকসুদপুর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার ২১ ফেব্রুয়ারির ভোরে নিজেদের তৈরি শহীদ মিনারের বেদীতে তারা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। এর আগে বুধবার সারাদিন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তৈরি করে এ শহীদ মিনার।

বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, মুকসুদপুর উপজেলার বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় তারা এ পথ বেছে নিয়েছেন।

পৌরসভাধীন ভাণ্ডারিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক নমিতা দেবী জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এর ভবন জরাজীর্ণ। এই জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। যে কোনো সময় ভবনটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি শহীদ মিনার।

ধর্ম রায়েরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাধন শিক্ষক সাগর মণ্ডল জানান, স্কুলে শহীদ মিনার না থাকায় এ ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কলাগাছ দিয়ে তৈরি করা শহীদ মিনারে  শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন।

চরপ্রসন্নদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পান্না ইয়াছমীন জানান, আমাদের বিদ্যালয়সহ মুকসুদপুর উপজেলার বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই । তাই আমাদের বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা গলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে কোনো শহীদ মিনার নেই বলে তারা জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারে না। এজন্য নিজেরাই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কলা গাছে আঠা দিয়ে কাগজ লাগিয়ে প্রতীকী শহীদ মিনার তৈরি করেছি।

কলাগাছের শহীদ মিনারে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাঞ্জলির কথা ভান্ডারিয়ার স্কুলের শিক্ষার্থী আমিন, সাব্বির জানায়, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা সবাই শহীদ মিনারে যাবে। কিন্তু তাদের বিদ্যালয়ে যেহেতু শহীদ মিনার নেই। তাই তারা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে কলা গাছের এ শহীদ মিনার বানিয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুন্সী রুহুল আসলাম বলেন, যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই সেগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি ভিত্তিতে ভবন নির্মাণসহ শহীদ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।