‘এরেস্ট করো, তাকে গুলি করে মারব’

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২২ | অনলাইন সংস্করণ

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম (বামে), গ্রেফতার সাংবাদিক  মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (ডানে)
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম (বামে), গ্রেফতার সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (ডানে)

অশ্লীল ভাষা উচ্চারণ করে ইউএনও বললেন ‘এরেস্ট করো, তাকে গুলি করে মারবো আমি’।

দৈনিক যুগান্তরের লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতারের আগে এভাবে হুংকার ছাড়লেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রশিদ পাড়ায় গিয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় পুলিশের সঙ্গে লোহাগাড়া ইউএনও আবু আসলামও ছিলেন।

সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী বেগম মূর্শিদা যুগান্তরকে জানান, ‘ইউএনও নিজেই পুলিশকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। এসময় ইউএনও তার স্বামী সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে গুলি করে মারার হুমকি দেন।’

এ হুমকি দেয়ার সময় ইউএনও কোমর থেকে অস্ত্র বের করেছিলেন বলে জানান মূর্শিদা।

ওই মুহুর্তে সেলিম উদ্দিন ঘরে বসে ল্যাপটপে নিউজ লিখছেলেন জানিয়ে মূর্শিদা বলেন, ‘কোন অপরাধে গ্রেফতার করে আমার স্বামীকে হঠাতই টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল সে বিষয়ে কিছুই জানায়নি পুলিশ।’ এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জানান, ‘২০১৪ সালের একটি মামলায় সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিলো। সেই পরোয়ানায় সেলিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

আসামী গ্রেফতার কালে ইউএনও উপস্থিত থাকতে হবে এমন কোনো নিয়ম আছে কি-না জানতে চাইলে ওসি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ইউএনওর দুর্নীতি সংবাদপত্রে প্রকাশ করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন মূর্শিদা বেগম।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন আগে পূর্ব বিরোধের জেরে উপজেলার একটি পুকুরের মাছ জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান ইউএনও।

ওই ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়।’

সেই বিষয়ে দৈনিক যুগান্তরে সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে ইউএনও ক্ষিপ্ত হন।

এছাড়াও লোহাগাড়ায় গৃহায়ন কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগে একটি সংবাদ করেছিলেন তিনি, ‘যেখানে ইউএনও আবু আসলামের দুর্নীতি প্রকাশ পায়।

এসব সংবাদ প্রকাশের কারণেই ইউএনওর চক্ষুশুল হয়েছিলেন সাংবাদিক সেলিম উদ্দিন বলে মনে করেন মূর্শিদা বেগম।’ এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু আসলাম বলেন, ‘একজন ম্যাজিস্ট্রেট যে কোনো সময় যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেন। পুলিশ অভিযানে ছিলো, ওই মুহুর্তে আমিও সেই এলাকার ছিলাম। তাই পুলিশের সঙ্গে গিয়ে এরেস্ট করে নিয়ে এসেছি।’

সাংবাদিক সেলিম উদ্দিনের স্ত্রীর অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সেলিমের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিলো, তাই গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×