বৃষ্টি এলেই বই নিয়ে দৌঁড়াতে হয় যে স্কুলে!

  মো. রইছ উদ্দিন, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস
শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস

টিনশেডের ঘর! মরিচা, জং ধরে ঘরের টিনে অসংখ্য ছিদ্র। বর্ষায় পানি পড়ে। রোদের আলোও যেতে বাধা নেই। খোলা আকাশের নিচে চলে একটি শ্রেণির ক্লাস! আরেকটি ক্লাস চলে অফিস কক্ষে। বৃষ্টি এলেই বই নিয়ে দৌঁড়তে হয় ওদের। বই রক্ষার জন্য পলিথিন নিত্যসঙ্গী।

এমন দৃশ্য দেখা গেল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার শাহবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ৮৮ জন ছাত্রী আর ১০০ জন ছাত্রের এ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে বিদ্যালয়টি শতভাগ পাসের রয়েছে ধারাবাহিক রেকর্ড অর্জন। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিকে ৩৬ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৩০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৩৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩৪ জন, চর্তুথ শ্রেণিতে ২৯ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ২১ জন ছাত্রছাত্রী অধ্যয়ন করছে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন হাজী মো. নুরুল ইসলাম।

প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান জানান, একটি ক্লাস গাছতলায় নিতে যায়। নইলে অফিস কক্ষে নিতে হয়। বিদ্যালয়ের টিন পুরাতন জং ধরা পুরো ক্লাসেই পানি পড়ে বলে জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক জানান, প্রকৌশল অধিদফতর থেকে ভবন নির্মাণের জন্য কয়েক দফা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। কেন ভবন হচ্ছে না, তিনি সেটা জানেন না।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. কামাল হোসেন জানান, একটি ভবনের জন্য শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক শামছুন্নাহার বলেন, খোলা আকাশ আর গাছতলায় পাঠদান করাতেও লজ্জা করে আমাদের। অথচ আমাদের শিশুরা ফলাফলে বারবার সেরাটাই দেখাচ্ছে।

সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার ও সখিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের ক্লাস সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী এ বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।

এ দিকে যুগান্তর প্রতিনিধি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর কোমলমতি শিশুদের প্রশ্ন- স্যার আপনিও ভবনের মাপ নেবেন।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তৌফিক আহমেদের কৌতূহলী মন, প্রশ্নবাণে পড়েন এ প্রতিনিধিও। কবে ভবন হবে, পাশের একটি স্কুলের নাম বলে জানায়, তাদেরটাও দ্বিতীয়তলা হবে।

এ ক্লাসের অনন্যা আক্তার জানতে চায়, ভবনটা কোনদিকে হবে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নুরে আফসানা সায়মা স্কুলব্যাগ থেকে পলিথিন দেখিয়ে বলে, স্যার এই পলিথিন ছাড়া কবে থেকে আসতে পারব।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, বিদ্যালয়টিতে ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদফতর থেকে মাটি পরীক্ষা, ভবনের পরিকল্পনা, ডিজাইন ও প্রাক্কলিক ব্যয় নির্ধারণ করে পত্র দিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক জানান, বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে ভবন নির্মাণের জন্য পত্র দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×