সেই ওসির এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বাউবি ভিসির অভিমত

  যুগান্তর ডেস্ক ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০০ | অনলাইন সংস্করণ

সেই ওসির এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে বাউবি ভিসির অভিমত
নীলফামারীর ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে জলঢাকার আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

শুক্রবার বিকালে অনুষ্ঠিত বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় ওই কেন্দ্রের ১নং রুমে বসে পরীক্ষা দেন তিনি। বিষয়টি জানার পর ওই কেন্দ্রে গিয়ে ওসির পরীক্ষা দেয়ার সত্যতাও পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে ওসি মফিজ উদ্দিন শেখের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। ওসি বলেন, জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা নেই। আমি আমার আগের শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে পদোন্নতি নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়েছি। এরপরও ব্যক্তিগত ইচ্ছায় আবারও এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছি। মানুষ ডাবল এমএ পাস করে না? এতে অসুবিধা কী?

সূত্র জানায়, ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) হিসেবে মফিজ উদ্দিন শেখ ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ২০ মে তিনি ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। বতমার্নে তিনি সেখানেই কর্মরত।

একাধিক পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জানান, ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করার সনদপত্র দিয়ে পুলিশ বিভাগে পদোন্নতি নিয়েছেন।

তিনি ৮ম শ্রেণির সনদপত্র দিয়ে কনস্টেবল পদে পুলিশ বিভাগে যোগদানের পর পদোন্নতি নিয়ে বর্তমানে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) হিসেবে ডিমলা থানায় কর্মরত আছেন। উন্মুক্ত বিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৭ সালে জলঢাকার আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে তিনি ভর্তি হন। যার রোল নং-৭।

২০১৮ সালের প্রথম সেমিস্টারের ও চলতি বছরের ২২ ফ্রেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিস্টারের বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন মফিজ উদ্দিন শেখ, যার পরীক্ষার রোল নং-১৭-০-১০-২৪৮-০০৭। প্রবেশপত্রে পরীক্ষার্থীর নাম মফিজ উদ্দিন শেখ, পিতা- রজব আলী শেখ ও মায়ের নাম রয়েছে নুরুননেছা বেগম।

এ বিষয়ে জলঢাকা আলহাজ্ব মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে তিনি (মফিজ উদ্দিন শেখ) বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২টি সেমিস্টারের পরীক্ষায় এবার পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে ওসি মফিজ উদ্দিনসহ দ্বিতীয় সেমিস্টারে ৯৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

এসব বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ভিসি অধ্যাপক ড. এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, এটি একটি অদ্ভুত বিষয়। জীবনে প্রথম শুনলাম এ ধরনের। একজন মানুষ এমএ পাস করলে আরেকটি সাবজেক্ট নিয়ে আবার এমএ পড়তে পারেন। এতে অসুবিধা নেই। কিন্তু এত নিচের ক্লাস, যেটা অষ্টম শ্রেণি পাস করে করার কথা। এটা আসলেই অদ্ভুত একটা বিষয়।

এতে অসুবিধা কোথায়? এসএসসি পরীক্ষার্থী নীলফামারীর ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখের এমন প্রশ্নের বিষয়ে জানতে চাইলে বাউবি ভিসি বলেন, এটি খুবই ইউনিক একটা বিষয়। আমার ১৭ বছরের শিক্ষকতার জীবনে এই ফার্স্ট টাইম আমি শুনলাম যে এই ধরনের ঘটনা। এমনিতেই আমরা জানি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড। এখানে যে কোনো বয়সের লোক পড়তে পারে ইচ্ছে করলে। ইউজিয়্যালি ফারদার ইমপ্রোভমেন্টের জন্য পড়ে। তবে নিচের লেভেলে পড়ার এ ধরনের নজির দেখিনি এখনও।

ওসির উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি ও তার আগের এসএসসির সনদ দুইটা সাংঘর্ষিক হবে কিনা- এমন প্রশ্নে ভিসি বলেন, এসএসসি হলেও তো আমার মতে সাংঘর্ষিক হওয়া কথা। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষায় যে জন্ম তারিখ দেয়া হয়, বিশেষ করে সার্টিফিকেটে সেটাকেই ভ্যালিড ধরা হয়। যদি অন্য কোনো ডকুমেন্ট না থাকে তাহলে এটাকে ভ্যালিড ধরা। এখন যদি উনার (ওসি) দুইটা সার্টিফিকেট হয় তাহলে উনি কোনটা ব্যবহার করবেন। ইউজিয়্যালি উনি আগেরটাই ব্যবহার করবেন, পরেরটা তো ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।

'কারণ উনি (ওসি) অলরেডি একটি সরকারি পজিশনে আছেন। অলরেডি এসটাবলিশ যে উনার একটা বার্থ একটি সার্টিফিকেট আছে ইন টার্মস অব এসএসসি সার্টিফিকেট। এবং এটি তো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। আবার এটার ওপর ভিত্তি করে উনি (ওসি) ইন্টামেডিয়েট এবং ব্যাচেলর ও মাস্টার ডিগ্রি নিয়েছেন, ওইটার পরিবর্তে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেটগুলো ব্যবহার করা যাবে না। উনি লেখাপড়ার জন্য লেখাপড়া করতে পারেন। এতে আইনত কোনো বাধা হওয়ার কথা না।'

অধ্যাপক মান্নান বলেন, আমার ব্যক্তিগত অভিমত- এখনের সার্টিফিকেট অবশ্যই সাংঘর্ষিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যখন নাকি বয়সের বিষয় আসবে, যখন উনি (ওসি) যদি উত্থাপন করেন এখনকার সার্টিফিকেটগুলো পরবর্তীতে ব্যবহার করবেন তাহলে তিনি আইনি ঝামেলায় পড়ে যাবেন।

এদিকে ওসির এসএসসি পরীক্ষা দেয়া নিয়ে যুগান্তরসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ যুগান্তরকে জানান, অষ্টম শ্রেণি পাস করে ১৯৮৭ সালে পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ৩২ বছর পেরিয়ে তিনি আজ একটি থানার ওসির দায়িত্ব পালন করছেন।

পর্যায়ক্রমে পুলিশের পদোন্নতি পরীক্ষায় মেধার গুণে তিনি এখন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু চাকরির শেষ জীবনে এসে সাধ পূরণের জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ। তিনি আলহাজ মোবারক হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় দিচ্ছেন।

ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ যুগান্তরকে বলেন, তার শিক্ষা নিয়ে জীবনে অতৃপ্তি ছিল। কিন্তু চাকরির শেষ জীবনে এসে তিনি সে সাধ পূরণের জন্য এবারে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে নীলফামারীর পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, অনেকে ওসির পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ঘটনায় নানা কথা বলছেন। কিন্তু আমি মনে করি এটাকে ‘পজেটিভ’ দেখা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি মানুষ তার অসমাপ্ত শিক্ষা জীবন চাকরি করা অবস্থায় প্রায় ৩০ বছর পর আবারও শুরু করছেন এটা তো ভালো উদ্যোগ। তিনি এত দিন যেভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন নিশ্চয় তিনি মেধার কারণে তা পেয়েছেন।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: j[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×