নিখোঁজ ইসমাইলের লাশ কি পাওয়া যাবে?

হাজীগঞ্জে নিহতের পরিবারের প্রশ্ন

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

চকবাজার ট্র্যাজেডি: ইসমাইলের লাশ কি খুঁজে পাওয়া যাবে?
ফাইল ছবি

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের আহম্মদপুর গ্রামের হাজী ইসমাইলকে (৬৫) খুঁজে পায়নি তার পরিবার।

হাসপাতালে খবর নিয়েও সন্ধান মেলেনি হাজী ইসমাইলের। এখন ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। তার ছেলে বাবু ও ভাই লিটনের ব্লাড নেয়া হয়েছে, এখন শুধু অপেক্ষা। তবু শঙ্কায় হাজী ইসমাইলের পরিবার। স্বজনদের প্রশ্ন- ইসমাইলের লাশ কি খুঁজে পাওয়া যাবে?

ঢাকায় বসবাসরত ওই গ্রামের বাসিন্দা চকবাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল হাজীর ভাতিজা মিজানুর রহমান যুগান্তরকে জানান, ঘটনার পর পরই তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম অজ্ঞান হয়ে যান। এখনও তিনি অসুস্থ। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত তাদের অভিভাবক ইসমাইল হাজী আর নেই। তাদের প্রিয় মানুষটির দেহটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তবে পরিবারের মধ্যে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

নিহত ইসমাইলের ফ্যাক্টরির দায়িত্বে ছিলেন সেখানকার খুদে এক কর্মচারী আবু বকর। সে জানায়, আমরা আর প্রিয় মানুষটিকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের বাড়ির মসজিদে নির্মাণের পুরো টাইলসের ব্যবস্থা করার কথা ছিল। সেটি আর হলো না। আমরা তার মতো মিশুক প্রকৃতির মানুষকে আর পাব না।

হাজী ইসমাইলের ভাই লিটন জানান, ঘটনার ১০ মিনিট আগে চকবাজারে আমার দোকান থেকে তিনি শেষ দেখা করেছিলেন। তখন তার সঙ্গে সেখানকার ব্যবসায়ী বুলবুল হাজীর ভাগিনা রাজুসহ তারা তিনজন একসঙ্গে বেরিয়ে পড়েন। তার মধ্যে আমার ভাইসহ দুজন আগুনের স্তূপে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় রাজু। সে নিশ্চিত করে আমার ভাই আগুনে পুড়ে গেছে। তার ভাষ্যমতে, আমার ভাই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার ভাইকে হারিয়ে আমরা এখন অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছি।

যেভাবে তার কর্মজীবন শুরু হয়: গ্রামের বাড়ি আহম্মদপুর ছয়আনিতে গিয়ে কথা হয় তার চাচা আবুল হাসানের সঙ্গে। তিনি জানান, হাজী ইসমাইলের নিখোঁজের খবর শুনে পুরো বাড়ি থমকে যায়। এখনও নিস্তব্ধ-নীরবতা এবং নীরব কান্নায় চলছে বাড়ির পরিবেশ। তিনি জানান, গরিব পরিবারের সন্তান হাজী ইসমাইল পাকিস্তান আমলে এসএসসি পাস করেই তিনি ঢাকায় চলে যান। সেখানে গিয়ে ঢাকার বকশীবাজারের বুলবুল হাজী নামের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তিনি সেই ব্যবসায়ীর দোকানে চাকরি শুরু করেন। সেই থেকে দিনে দিনে তিনি হয়ে পড়ের দুটি ফ্যাক্টরির মালিক।

চকবাজারেও তার একটি প্লাস্টিকের দোকান ছিল। শেষ দিন সেই প্রতিষ্ঠানেই তিনি বসেছিলেন। তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সেই বুলবুল হাজীর সঙ্গেই নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিলেন। তার জীবদ্দশায় সাতবার হজ করেছেন।

চাচা হাসান বলেন, গত শুক্রবারেও বাড়িতে এসে বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় টাকা দান করেছেন। এ এলাকায় তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দানশীল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বর্তমানে স্ত্রীসহ এক ছেলে দুই মেয়ে রয়েছে। তিন ভাই চার বোনের মধ্যে তিনি বড়। হাজী ইসমাইল হাজীগঞ্জ উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের মৃত হাজী ইসহাকের ছেলে।

ঘটনাপ্রবাহ : চকবাজার আগুনে মৃত্যুর মিছিল

আরও
আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×