‘সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কী পাইলাম’

  ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহ

দেশের দরিদ্রদের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসাস্থল সরকারি হাসপাতাল। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসার জন্য গেলেও কোনো না কোনো কারণে টাকা খরচ হচ্ছে। এ নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

‘টাকা দিয়েই যদি চিকিৎসা করাতে হয় তাহলে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে কী পাইলাম।’ এ কথাগুলো বলছিলেন ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ঠাকুর বাখাই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী জহুরা খাতুন।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, সন্তান প্রসবের জন্য মেয়ে সম্পা বেগমকে রোববার বেলা ১১টায় ফুলপুর হাসপাতালে ভর্তি করি। সন্ধ্যায় এখান থেকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার্ড করে দেন। পরে হাসপাতালের সামনের রংধনু ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সম্পা বেগমের ছেলে সন্তান হয়।

তিনি জানান, রাত ১১টার দিকে শিশু অসুস্থ হলে ফুলপুর হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. জাকির হোসাঈন শিশুকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। এ সময় যেতে না পারায় অবস্থার অবনতি হলে রাত ২টার দিকে আবার হাসপাতালে যাই। অনেক অনুরোধের পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. জাকির হোসাঈন চিকিৎসার জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা দাবি করেন। পরে ১ হাজার টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।

জহুরা খাতুন জানান, ওষুধ সেবনে শিশু সুস্থ হলেও সোমবার দুপুরে আবার অসুস্থ হয়। পরে হাসপাতাল সংলগ্ন সেবা প্রাইভেট ক্লিনিকে ডা. মো. জাকির হোসাঈনের চেম্বারে গেলে আবার ৩০০ টাকা দিতে হয়।

এতে দুঃখ করে তিনি জানান, টাকা দিয়েই যদি চিকিৎসা করাতে হয় তাহলে সরকারি হাসপাতালে গিয়ে আমরা কী পাইলাম।

শিশুর দাদি শাহানাজ বেগম জানান, ডাক্তারকে যত অনুরোধ করলাম ততই রাগ করলেন। হাসপাতালে টাকা ছাড়া তিনি চিকিৎসা করলেন না।

এ ব্যাপারে ডা. মো. জাকির হোসাঈনের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। পরে অভিযোগকারীকে উনার সামনে নিয়ে প্রমাণ করতে বলেন।

ফুলপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. প্রাণেশ চন্দ্র পন্ডিত জানান, সরকারি হাসপাতালে ৫ টাকার টিকিট ফি ছাড়া কোনো টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

প্রায় ২ বছর আগে ঠাকুর বাখাই গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সম্পা বেগমের সঙ্গে ময়মনসিংহ সদরের শম্ভুগঞ্জ এলাকার শাহজাহানের পুত্র শাকিলের বিয়ে হয়। সন্তান প্রসবের জন্য শম্পা বেগমকে পিত্রালয় থেকে ফুলপুর হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৬১ ২৬
বিশ্ব ১০,৫৫,১৭৯২,২৩,৮৮৬৫৫,৭৩১
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×