ভাশুরের পিটুনিতে আঙুল ভাঙল গৃহবধূর

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৯:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

ভাশুরের পিটুনিতে আঙুল ভাঙল গৃহবধূর
হাসপাতালের বেডে গৃহবধূ আসমা বেগম। ছবি: যুগান্তর

বরগুনার আমতলীতে দুই কন্যাসন্তানের জননী আসমা বেগম (২৯) নামে এক গৃহবধূকে ভাশুর মুছা খাঁন বেধড়ক পিটিয়ে আঙুল ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত গৃহবধূকে শনিবার দুপুরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার উপজেলার চাওড়া বৈঠাকাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শরীরের যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছেন গৃহবধূ আসমা। টাকার অভাবে কর্মহীন অসচ্ছল স্বামী কলিমুল্লাহ স্ত্রীর ওষুধ কিনতে পারছেন না।

সূত্র জানায়, উপজেলার আঙ্গুলকাটা গ্রামের আজিজুর রহমান মুন্সির মেয়ে আসমার ২০০৭ সালে বৈঠাকাটা গ্রামের গনি খাঁনের ছেলে কলিমুল্লাহ খানের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ভাশুর মুছা খাঁন ছোট ভাই কলিমুল্লাহ খাঁনের স্ত্রী আসমাকে মেনে নিতে পারেননি।

ওই সময় থেকেই ছোট ভাইকে তার স্ত্রী আসমাকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন মুছা। এতে রাজি হননি ছোট ভাই কলিমুল্লাহ। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

শনিবার সকালে ভাশুর মুছা খাঁনের সঙ্গে আসমার পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুছা খাঁন ছোট ভাই কলিমুল্লাহকে ডেকে তার স্ত্রী আসমাকে তালাক দেয়ার জন্য চাপ দেন। বড় ভাইয়ের কথায় রাজি হননি কলিমুল্লাহ।

একপর্যায় ক্ষিপ্ত হয়ে মুছা খাঁন ছোট ভাইকে মারধর শুরু করেন। স্বামী কলিমুল্লাহকে রক্ষায় স্ত্রী আসমা বেগম এগিয়ে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করেন মুছা।

ভাশুরের মারধরে আসমার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও জখম হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সে ভর্তি করেন।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, গৃহবধূ আসমার একটি আঙুল ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ আসমা কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমাকে তালাক দেয়ার জন্য আমার স্বামীকে বিভিন্ন সময় চাপ দেয় ভাশুর। আমার স্বামী তার কথায় রাজি হয়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাশুর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে আমাকে মারধর করে আসছে। গত তিন মাস আগে পিটিয়ে আমার বাম পা ভেঙে দেয়। তখন আমি কোনো সুবিচার পাইনি।

তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, এবার সুবিচার না পেলে আত্মহত্যা করব।

স্বামী কলিমুল্লাহ তার স্ত্রীকে বড় ভাই মুছা খাঁনের মারধরের কথা স্বীকার করে বলেন, দুজনের কেউ কাউকে মানে না। পারিবারিকভাবে ঝগড়া হলে উভয় উভয়কে গালাগাল করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাই মারধর করেছে।

এ বিষয়ে মুছা খাঁনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

আমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×