‘কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে আত্মহত্যা সম্ভব নয়’

  বরিশাল ব্যুরো ১১ মার্চ ২০১৯, ১৮:১২ | অনলাইন সংস্করণ

কয়েদি কবির সিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় বরিশাল প্রেসক্লাবের হলরুমে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
কয়েদি কবির সিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় বরিশাল প্রেসক্লাবের হলরুমে স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি কবির সিকদারের মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী হনুফা বেগম। সোমবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবের হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে হনুফা বেগম বলেন, ‘পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বাসিন্দা কবির সিকদার একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। তিনি বরিশাল কারাগারে কাজ করতেন। আমার স্বামী কবিরকে হত্যা করা হয়েছে নাকি আত্মহত্যা সেটা বুঝে উঠতে পারছি না। তবে আমার দীর্ঘ বিশ্বাস সে আত্মহত্যা করতে পারে না। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানদের খুবই ভালোবাসতেন।

তিনি বলেন, জেলে যখন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতাম তখনই তিনি আমাদের সাহস জোগাতেন। কিছুদিন আগে যখন তার সঙ্গে দেখা করি তখন তার জামিনের কথা বলি। সেই মানুষটা কীভাবে আত্মহত্যা করে সেটা আমি বুঝতে পারছি না।

হনুফা বেগম বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসি। সকাল ৯টা থেকে পাঁচবার টিকিট কাটি কিন্তু তবুও তার দেখা পাওয়া যায়নি। পরে জেল থেকে আমাদের জানানো হয় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কখনো বলে টিকিট হারিয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিকাল ৪টার দিকে এসে বলে কবির বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালে যাওয়ার পর হাসপাতালে থাকা পুলিশরা আমাদেরকে লাশঘরের দিকে নিয়ে যায় এবং আমাদের লাশ দেখায়, জানায় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তিনি যদি আত্মহত্যা করেই থাকে তাহলে কেন আমাদেরকে সকাল থেকে হয়রানি করা হয়েছে। এছাড়া পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আমরা সন্দেহজনক কিছু তথ্যও পাই। এছাড়া কবির সিকদারের বুকে কালো দাগ ও দুই হাতে কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়।’

এ সময় তিনি আরও বলেন, কবির সিকদার (৪০) ভোলা জেলার মনপুরা থানা এলাকায় চুরির ঘটনায় ১৯৯৯ সালের একটি মামলায় ১৯ বছর পর ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর গ্রেফতার হয়। ওই ঘটনায় তার ১০ বছরের সাজা হয়। এরপর তাকে পিরোজপুর জেলে নেয়া হয় এবং পরে বাদীর স্থানীয় ঠিকানা অনুযায়ী ভোলা জেলে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ৩-৪ মাস থাকার পর কবিরের অসুস্থতার কারণে তাকে বরিশাল কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি বরিশাল কারাগারে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন।

মৃত কবিরের স্ত্রী বলেন, মৃত্যুর সাত দিন আগে দেখা করে তাকে জানানো হয় ৫ মার্চ তার জামিন হয়ে যাবে। সেই লোক কীভাবে আত্মহত্যা করে সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে হনুফা বেগমের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবির সিকদারের ৫ বছর বয়সী মেয়ে সাইমুনা ও ১০ মাস বয়সী মেয়ে মাইশা ও মৃত কবির সিকদারের ভাই আবদুল জলিল।

উল্লেখ্য, ১ মার্চ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কবির সিকদার গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানানো হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×