রাজশাহীর বাড়িতে ‘টাকশাল’!

  রাজশাহী ব্যুরো ২০ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহী

রাজশাহীর এক বাড়িতেই গড়ে উঠেছিল ‘টাকশাল’। তৈরি হতো হাজার হাজার জালটাকা। আসল ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো জাল ১ লাখ টাকা। আর এ জালটাকা মাদক কিনতে ব্যবহার করা হতো। এই চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- রাজশাহী মহানগরের কাটাখালি থানার শ্যামপুর পশ্চিমপাড়া মহল্লার সামাউন আলীর ছেলে জনি হাসান (২৪), একই এলাকার মাসুদ রানার ছেলে জনি আলী (২২), জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ইনসান মিয়া (২২) এবং পবা উপজেলার হরিয়ান পশ্চিমপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম রেজুর ছেলে সুমন রানা (২৪)।

এই চার তরুণের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৮ লাখ ১২ হাজার জালটাকা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল মঙ্গলবার রাতে কাটাখালি থানার দেওয়ানপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

বুধবার দুপুরে মহানগর ডিবি পুলিশের কার্যালয়ে জালটাকাসহ তাদের গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে হাজির করা হয়।

সেখানে ডিবি পুলিশের উপকমিশনার আবু আহাম্মদ আল মামুন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চারজনকে ৮১২টি ১ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় তারা নোটগুলো বিক্রির জন্য একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের সবার কাছেই জালনোট পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারের পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুমনের দোতলা বাড়ির নিচতলা থেকে জালনোট তৈরির প্রিন্টার ও কাগজসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, সুমন রানা রাজশাহী কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। অন্য তিনজন স্বল্প শিক্ষিত। গ্রাফিক্সে পারদর্শী সুমন জালনোট তৈরি করতেন। জনি হাসান ও জনি আলী বিভিন্ন স্থানে জালনোট বিক্রি করতেন। আর ইনসান মিয়া একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি জালনোট দিয়ে মাদক কিনে প্রতারিত করতেন।

ইতিপূর্বে ইনসান মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন। তবে পবা উপজেলার দামকুড়া বাজারে ইনসানের মোটরসাইকেল মেকানিকের দোকান আছে। মেকানিকের কাজের আড়ালে এসব অপকর্ম করেন তিনি।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, জনি হাসান শিবির ও জনি আলী ছাত্রদল করেন। তারা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে তারা প্রায় ৭ লাখ জালটাকা বিক্রি করেছেন। তারা যাদের কাছে এসব নোট বিক্রি করেছেন তাদেরকেও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে রাতেই বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারেও পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সেদিন দুই বাড়ি থেকে ৬০ লাখ ভারতীয় জাল রুপি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত হন দুজন। এদের মধ্যে রাজশাহীতে গ্রেফতার হওয়া দরদুজ্জামান বিশ্বাস ওরফে জামান (৫৭) দেশে টাকা জালচক্রের মূলহোতা।

১৯৮৮ সাল থেকে জালটাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরির এই কারিগর বরাবরই থাকেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘মোস্ট ওয়ানটেড’ তালিকায়।

দরদুজ্জামানের সঙ্গে গ্রেফতারকৃত চারজনের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না জানতে চাইলে নগর ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা আবু আহাম্মদ আল মামুন বলেন, এটি এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তারা কারও না কারও কাছে জালটাকা তৈরির কৌশল শিখেছেন। সে ব্যাপারে কিছু তথ্যও পাওয়া গেছে। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জালটাকার কারিগরদের ধরতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×