বাংলাদেশকে বন্ধুরাষ্ট্র বললেও নিরীহ মানুষ হত্যা করছে ভারত: কিরিটি রায়

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ২১ মার্চ ২০১৯, ২১:১০ | অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিরিটি রায়
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিরিটি রায়

ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) সাধারণ সম্পাদক কিরিটি রায় বলেছেন, ভারতে ৪ হাজার ৬৫ কিলোমিটার সীমান্তপথের মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফকে পাহারায় বসানো হয়েছে। অথচ ভুটান ও নেপালের মানুষ অনায়াসে নিজেদের অভ্যন্তরে যাতায়াত করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ভারত বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র বললেও সীমান্তে পাহারা বসিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক দাবি করা যায় না।

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের হাতে নির্মম হত্যার শিকার কিশোরী ফেলানী হত্যা মামলাটি ভারতীয় উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকলেও দীর্ঘসূত্রিতা ন্যায়বিচারের জন্য বড় বাধা বলেও মন্তব্য করেছেন কিরিটি রায়।

বুধবার রাতে ফেলানী হত্যায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী এসএম আব্রাহাম লিংকনের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তিনি।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আলাপচারিতায় মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ে কিরিটি রায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

ভারতীয় এক সমীক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি ১০ বছরে সীমান্তে এক হাজার মানুষ মারা যায়। সীমান্তে শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতীয়রাও মারা যান। এর মধ্যে ৭০ ভাগ বাংলাদেশি এবং ৩০ ভাগ ভারতীয় বলে তিনি জানান।

কিরিটি রায় সাংবাদিকদের বলেন, তিনটি লক্ষ্য নিয়ে আমি কথা বলতে এসেছি। প্রথমত, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হিংসা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ছিটমহল বিনিময় হলেও প্রকৃত সমস্যার সমাধান হয়নি। এ নিয়ে সোচ্চার হোন। তৃতীয়ত, দুদেশের কারাগারে অসংখ্য মানুষ বন্দি আছে। মেয়াদ শেষ হলেও তারা পচে মরছে। তাদের জন্য কিছু করতে হবে। এ সময় সীমান্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা সরকারবিরোধী নই। সরকারের ভুলগুলো শুধরে সাফল্য এনে দেয়াই আমাদের কাজ। তারপরও বাংলাদেশে ভিসা পেতে আমাকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আমি বারবার ভিসা অফিস থেকে ফিরে গেছি।

কিরিটি রায় বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা মানবাধিকার লংঘনের বিষয়গুলো নিয়ে সিরিয়াসভাবে কাজ করুন। অসহায় নিরপরাধ মানুষ আপনাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দায়িত্বপ্রাপ্তদের সময় নেই এসব দেখার। ফেলানী হত্যার বিচার কার্যতালিকায় তিন নম্বরে থাকার পরও বিচারের দিন তা কার্যতালিকা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কোর্ট এ রকম করলে মানুষ আরও হতাশ হবে। ন্যায়বিচার বিলম্ব হবে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

কুড়িগ্রাম শহরের খলিলগঞ্জস্থ লিংকনস ইনস ভবন প্রাঙ্গণে আলাপচারিতায় উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এসএম আব্রাহাম লিংকন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, সিনিয়র সাংবাদিক সফি খান, ছানালাল বকসী, শ্যামল ভৌমিক, হুমায়ুন কবির সূর্য্য, কুড়িগ্রাম ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক দুলাল বোস প্রমুখ।

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মানবাধিকার পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন কিরিটি রায়।

তিনি বলেন, শুধু চোরাকারবারি নয়; দুদেশের অভ্যন্তরে নাড়ির টানে আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়েও হত্যার শিকার হচ্ছে মানুষ। সীমান্তে এই হিংসা বন্ধ করতে হবে। কারাগারে যারা পচে মরছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাই নতুন রাষ্ট্র ও নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষগুলো যেন ভূমির অধিকার পায়।

কিরিটি রায় বলেন, ভারতে ছিটমহলবাসীদের পাকা বাড়ি করে দায়সারাতে চাইছে আমাদের সরকার। কিন্তু আমরা বলেছি, কৃষকদের বাড়ি নয় জমিন দাও। যাতে তারা কাজ করে খেতে পারবে।

আরও পড়ুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×