ক্রিকেট খেলার বাজি ধরতেই গৌরীপুর জংশনের ক্যাশের টাকা লুট!

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২২ মার্চ ২০১৯, ১৭:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন
গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট খেলায় বাজি ধরতেই ক্যাশের টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে। ঘটনায় জড়িত জংশনের বুকিং সহকারী মহসীন রেজাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

তবে ঘটনাটিকে গোপন রেখেই ধামাচাপা দেয়ার পাঁয়তারা চালায় সংশ্লিষ্ট দফতর।

অপরদিকে ট্রেনের টিকিট দ্বিগুণ দামে বিক্রি আর টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের ‘কালোথাবা’ বন্ধ করণে পরাস্ত প্রশাসন!

শুক্রবার জংশনে গিয়ে জানা যায়, মহসীন রেজার বরখাস্তের বিষয়টি কারো অজানা নয়। তারপরেও এ ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে তৎপর একটি সিন্ডিকেট চক্র। এ সিন্ডিকেটের প্রধান এ জংশনের বড় মাস্টার খ্যাত স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদ। তার নেতৃত্বেই প্রতিটি টিকিট কাউন্টারেই চলেছে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি।

টিকিট কালোবাজারির থাবা থামাতে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাবেয়া ইসলাম ডলিসহ একাধিক বক্তা তুলে ধরেন। সে সময় দু-একবার প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া হলেও কালোবাজারিরা প্রতিবারই থাকত ধরাছোঁয়ার বাইরে। রেলওয়ে ফাঁড়িতে ছয় কালোবাজারির তালিকা রয়েছে, তবে কোনো তৎপরতা নেই।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন থেকে জারিয়া, মোহনগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ এ চার রেলপথে প্রতিদিনই আন্তঃনগর, কমিউটারসহ ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। যাত্রীদের চাহিদানুযায়ী টিকিট না থাকায় এ স্টেশনে স্টেশনমাস্টার, বুকিং সহকারীদের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে ‘শক্তিশালী টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেট’। এ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কয়েক দফা প্রশাসন উদ্যোগ নিলেও কার্যকর কিছুই হয়নি।

ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন হাওর ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট (শোভন) ১৪৫ টাকা হলেও কালোবাজারে তা কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করে। চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের (শোভন) ৩২০ টাকার টিকিট ৮০০ টাকায় চলছে বিক্রি। এছাড়াও কমিউটার ট্রেন বলাকা ও মহুয়া ট্রেনের টিকিট অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার টিকিট নিতে আসা বান্দরবান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তোফায়েল আলম জানান, কাউন্টারে টিকিট নাই। কয়েকজন বলেছে, সন্ধ্যায় আসতে, বাইরে পাওয়া যাবে।

তার এ বক্তব্যের সুর ধরেই পাশে থাকা মনিরুজ্জামান রতন জানান, ঢাকার টিকিট নিয়েছি টিকিট কাউন্টারের সামনের পান দোকান থেকে।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, দ্বিগুণ দামে টিকিট বিক্রি ও কালোবাজারি বন্ধে আমরা মানববন্ধন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কিছুদিন আগে কাউন্টার থেকে ঢাকাগামী বলাকা ট্রেনের ৭৫ টাকার টিকিট ১০০ টাকা রেখেছে।

এ দিকে সরকারি কোষাগারের ৭ লাখ টাকা নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি জংশন থেকে নিখোঁজ হয়ে যান বুকিং সহকারী মহসীন রেজা। রেলওয়ে বিভাগ ঘটনাটি জানতে পারেন আরও পরে। কর্তৃপক্ষ জানার পরে সেই টাকাও ক্যাশে ফেরত দেন বুকিং সহকারী মহসীন রেজা।

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ক্রিকেট খেলার বাজি ধরতেই ক্যাশের ৭ লাখ টাকা লুট করে উধাও হয়ে যান মহসীন মাহমুদ। টাকা জমা দেয়ার পর ধামাচাপা দিতে তৎপর হয়ে উঠেন সংশ্লিষ্ট দফতর।

মহসীন মাহমুদের মোবাইল ফোন ও অফিসে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও তার মন্তব্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জংশনের মাস্টার আবদুর রশিদ জানান, টাকা ফেরত দিয়েছে। সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। তবে অস্বীকার করেন কাউন্টারে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রির বিষয়টি।

বুকিং সহকারী জহির রায়হান বলেন, কাউন্টারে কোনো অবস্থাতেই টিকিট লেখা মূল্যের চেয়ে বেশি নেয়া হয় না।

স্টেশনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় কর্মকর্তা ফোনে কথা বলতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের অনুরোধে শুধু বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে বলতে পারব। তদন্ত চলছে।’

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×