জুমার নামাজ পড়ে এসেই বাবাকে খুন করে পালাল ছেলে

  মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি ২২ মার্চ ২০১৯, ২২:০১ | অনলাইন সংস্করণ

হত্যা

যশোরের মনিরামপুরে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলের হাতে থাকা শাবলের আঘাতে বাবা তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী (৬৫) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন।

শুক্রবার জুমা নামাজের পর উপজেলার গালদা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহত তাজুল ইসলাম উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের গালদা গ্রামের মৃত হাসান আলী পাটোয়ারীর ছেলে। অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন (৩৫) ঘটনার পর পালিয়েছে।

খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্ধ্যায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এ সময় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী আনোয়ার বেগম, ছোট ভাই মাজু মিয়া, বড় পুত্রবধূ মুন্নি খাতুন, ছোট পুত্রবধূ রেহেনা খাতুনকে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় ইউপি মেম্বর ইকরামুল হোসেন জানান, নিহতের দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন এবং হুমায়ুন কবির মালয়েশিয়ায় চাকরি করতেন। সম্প্রতি তারা বাড়িতে আসেন। তাদের পাঠানো টাকা নিয়ে বাবার সঙ্গে বিবাদ চলছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ এলাকাবাসী জানায়, তাজুল ইসলামের দুই ছেলে মালয়েশিয়া থেকে বাবার কাছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পাঠায়। সম্প্রতি দুই ছেলে বাড়িতে এসে বাবার কাছে ওই টাকার হিসাব চায়। কিন্তু বাবা সেই টাকার হিসাব দিতে ব্যর্থ হন। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে দুই ছেলের ভুল বোঝাবুঝি হয়। ওই টাকার হিসাব নিয়ে আনোয়ারের সঙ্গে বাবার প্রায়ই ঝগড়া চলে আসছিল।

নিহতের ছোট ভাই প্রত্যক্ষদর্শী মাজু মিয়া জানান, শুক্রবার তার বাবা এবং বড় ভাই গ্রামের মসজিদ থেকে জুমার নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে আসে। দুপুর আড়াইটার দিকে ঘরের মধ্যে ওই টাকা নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বড় ভাই লোহার শাবল দিয়ে বাবার ঘাড়ে এবং পিঠে আঘাত করে। এতে বাবা ঘটনাস্থলেই মারা যান।

মনিরামপুর থানার এসআই খান আবদুর রহমান জানান, নিহত তাজুল ইসলামের বড় ভাই নাজমুল ইসলাম পটোয়ারি যশোর শহরে জমি ক্রয়ের তোড়জোড় করছিলেন। এতে ছেলে আনোয়ারের সন্দেহ হয় তাদের পাঠানো টাকা দিয়েই ওই জমি ক্রয় করা হচ্ছে। এ নিয়ে নিহত তাজুল ইসলামের সঙ্গে আনোয়ারের কথাকাটির একপর্যায়ে ঘরে থাকা শাবল দিয়ে বাবাকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন।

খবর পেয়ে পরিদর্শক (সার্বিক) সহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে খেদাপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালাহ উদ্দিন নিহতের স্ত্রী আনোয়ার বেগম, ছোট ভাই মাজু মিয়া, বড় পুত্রবধূ মুন্নি খাতুন, ছোট পুত্রবধূ রেহেনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মনিরামপুর থানার ওসি সহিদুল ইসলাম।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×