উলিপুরে লাখ লাখ টাকার বই উইপোকার পেটে!

  উত্তম কুমার সেন গুপ্ত লক্ষন, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২৫ মার্চ ২০১৯, ২১:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

শহীদ স্মৃতি পাঠাগার
শহীদ স্মৃতি পাঠাগার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে কর্তৃপক্ষের অযত্ন অবহেলায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগার ও পাবলিক লাইব্রেরি প্রায় একযুগ ধরে বন্ধ রয়েছে।

গ্রন্থাগার দুটির কার্যক্রম সচল না থাকায় স্থানীয় লোকজন বই সংগ্রহ ও পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে উপজেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ কয়েক লাখ টাকার বিভিন্ন মূল্যবান বই উইপোকায় খেয়ে ফেলছে।

জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে উলিপুর কোর্ট বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ, বই ও আসবাবপত্র প্রদান করা হয়। শুরুর কয়েক বছর পাঠাগারটি স্থানীয় পাঠকদের জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়।

শুরুতে পাঠগারটিতে পাঠকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। ওই সময় পাঠাগারটি শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজসহ সব বয়সী বইপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত হয়েছিল। বইয়ের পাশাপাশি নেয়া হতো বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকা। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে আয়োজন করা হতো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নানা অনুষ্ঠান।

তবে ২০০৭ সালের দিকে পাঠাগারটি বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় পাঠাগারটি বন্ধ রয়েছে। ফলে ইতিমধ্যে অধিকাংশ বই উইপোকায় খেয়ে ফেলছে এবং অনেক বই খোয়া গেছে। এছাড়াও সাউন্ড সিস্টেম মাইক, মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও মূল্যবান জিনিসপত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

অপরদিকে ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ কর্তৃক উপজেলা অডিটোরিয়াম ভবনের একটি কক্ষে পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর কিছুদিন ভালোভাবে চললেও পরে একসময় রহস্যজনক কারণে সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

এ প্রতিষ্ঠানটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি ভবনটি ভেঙে ফেলে নুতুন ভবনের নির্মাণাধীন কাজ চলমান রয়েছে। নতুন প্রজন্মের তরুণ পাঠক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাঠাগার দুটি বন্ধ থাকায় অবসর সময়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ে সময় কাটানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তরুণরা বিপথগামী হচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারের লাইব্রেরিয়ান হরেকান্ত রায় জানান, পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাজ করেছি। কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বাধ্য হই।

মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহম্মেদ মুকুল বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে পাঠাগারটি বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের জানান, নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলে পাবলিক লাইব্রেরি আবারও পাঠকদের জন্য চালু করা হবে। শহীদ স্মৃতি পাঠাগারটি চালুকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×