ব্রিজ নয় যেন মরণফাঁদ!

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসাসংলগ্ন মরাজান খালের আয়রন ব্রিজ ভেঙে পড়েছে
উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসাসংলগ্ন মরাজান খালের আয়রন ব্রিজ ভেঙে পড়েছে

বরগুনার আমতলী ও পটুয়াখালী সদর উপজেলার সীমানা দিয়ে প্রবাহিত গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসাসংলগ্ন মরাজান খালের আয়রন ব্রিজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ব্রিজ ভেঙে দুই উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি পারাপার হতে হয়।

ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি তাদের।

জানা গেছে, বরগুনার আমতলী ও পটুয়াখালী সদর উপজেলার সীমানা দিয়ে প্রবাহিত মরাজান খাল। ১৯৯৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ ওই খালের গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসাসংলগ্ন স্থানে আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করে।

আমতলী ও পটুয়াখালী সদর দুই উপজেলার সেতু বন্ধন এ ব্রিজটি ২০১৬ সালে ভেঙে যায়। গত তিন বছর ধরে ব্রিজটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে ৫০ হাজার মানুষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হলেও ব্রিজটি নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।

ওই ব্রিজ দিয়ে উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া, উত্তর কালামপুর নুরানী দাখিল, ন.ম আমজাদিয়া আলিম মাদ্রাসা, উত্তর পূর্ব কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ে আসতে হয়।

এছাড়া ওই ব্রিজ দিয়ে কলাগাছিয়া বাজার, ঘাসের হাট বাজার, কালিবাড়ী, বাজারঘোনা ও মুরিচবুনিয়া গ্রামের মানুষের দুপারে যাতায়াত করতে হয়। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় সাত কিলোমিটার ঘুড়ে ব্রিজ পার হয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়। ব্রিজটি দ্রুত নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ওই ব্রিজটি নির্মাণের জন্য আমতলী স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ ও উপজেলা পরিষদকে জানিয়েছেন। কিন্তু গত তিন বছরে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছে না তারা। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দিয়ে দেখা গেছে, দুই উপজেলার সীমানা দিয়ে প্রবাহিত মরাজান খালের ব্রিজটি মাঝখান দিয়ে ভাঙা। ভাঙা অংশে স্থানীয় লোকজন কলাগাছ দিয়ে রেখেছেন। ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবু বকর, নুর আহম্মদ, গোলাম বারী, জেসমিন ও সুরাইয়া জানান, প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ ব্রিজটি পার হয়ে মাদ্রাসায় আসতে হয়। ব্রিজের ভাঙা অংশ পার হতে খুব ভয় লাগে, কোনো সময় ব্রিজ দিয়ে পড়ে মারা যাই। গত তিন বছর ধরে ব্রিজটি এ অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে না। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণের দাবি জানান তারা।

স্থানীয় আবদুস সালাম মৃধা, মহিউদ্দিন ও মাওলানা রফিকুল্লাহ জানান, গত তিন বছর ধরে ব্রিজটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগকে জানানো হলেও তারা ব্রিজ নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

উত্তর কালামপুর হাতেমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী মৌলভী ও আমতলী জমিয়াতে মোর্দারেছিনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ব্রিজটি ভাঙার পরপরই আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী নজরুল ইসলামকে জানিয়েছি কিন্তু তিনি ব্রিজ নির্মাণের কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

গুলিশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় গত তিন বছর ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ ৫০ হাজার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ ব্রিজটি নির্মাণের জন্য উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ও উপজেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদের সভায় রেজুলেশন হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।

আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ব্রিজ ভেঙে পড়েছে এ খবর কেউ আমাকে জানায়নি। সরেজমিনে ওই ব্রিজটি দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×