প্রকাশ্যে সিল মেরে ভোট ডাকাতির অভিযোগ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ২৮ মার্চ ২০১৯, ১১:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

সিল মেরে ভোট ডাকাতির অভিযোগ আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পিন্টু। ছবি: যুগান্তর

সাতক্ষীরার আশাশুনির তুয়ারডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে ২৭টি ভোট পড়ার পর প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতরা সব ব্যালট নিয়ে নিজেদের মতো করে নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। এ ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে জোর করে ঢুকে একইভাবে ভোট ডাকাতি করা হয়েছে।

বুধবার এমন সব তথ্য তুলে ধরে আশাশুনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে আনারস প্রতীক নিয়ে পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম পিন্টু ফল বাতিল করে নতুন নির্বাচন দাবি করেছেন।

দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন পিন্টু। এ ব্যাপারে তিনি জেলা রিটার্নিং অফিসারকেও লিখিতভাবে জানিয়েছেন বলে জানান।

নির্বাচনের আগে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের বরাতে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হলে তাকে লাশ হয়ে ঘরে ফিরতে হবে। প্রকাশ্যে ভোট ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ অথবা কর্তৃপক্ষ তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেননি। এমনকি ভোট চলাকালে বেলা ১১টায় এ অভিযোগ দিলেও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পিন্টু বলেন, তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে টেবিলে ব্যালট রেখে নৌকা প্রতীকে সিল মারার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি রয়েছে। মুড়ি বইতে নৌকায় সিল মারা অবস্থায় বহুসংখ্যক ব্যালট রেখে দিতে দেখা গেছে। পরে সেগুলো ভোটবাক্সে ঢোকানো হয়েছে।

এমনকি তুয়ারডাঙ্গা কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সুকুমার মণ্ডল প্রার্থী পিন্টুকে বলেন, ‘নৌকার প্রার্থী মোস্তাকিমের সন্ত্রাসী বাহিনীর চাপের মুখে ইউএনও ও ওসির সাহায্য চাইলেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সন্ত্রাসীদের হাতে ব্যালট তুলে দিতে বাধ্য হই।’

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি হয়নি, সেখানে ২৫-৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর ভোট ডাকাতির কেন্দ্রগুলোতে ৫৫-৯৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দেখানো হয়েছে। উপজেলার ৭৮টির মধ্যে ৪৯ কেন্দ্রে এ ধরনের ডাকাতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী এবিএম মোস্তাকিম বাহিনীর ডাকাতদের এই তাণ্ডব দেখে সাধারণ ভোটাররা চোখের জল ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন। প্রশ্নবিদ্ধ এই ভোট বাতিল করে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তার এই দাবি না মানা হলে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের বক্তব্য এবং মিডিয়াকর্মীদের ধারণকৃত ডকুমেন্ট নিয়ে আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াইয়ে নামতে বাধ্য হবেন তিনি।

তিনি বলেন নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা চলছে আশাশুনিতে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে মারপিট করা হয়েছে। বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে। আহতরা সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পিন্টু সংবাদ সম্মেলনে তার মোবাইলে ধারণকৃত ছবিতে মুড়ি বইতে নৌকায় ভোট দিতে দেখান। এ ছাড়া প্রিসাইডিং অফিসারও ভোট ডাকাতদের হাতে ব্যালট তুলে দেয়ার কথা স্বীকার করার কথার রেকর্ড শুনিয়েছেন প্রার্থী শহিদুল ইসলাম পিন্টু।

এদিকে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তুয়ারডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার হাড়িভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকুমার মণ্ডল জানান, ‘আমি ২৭টি ভোট পড়ার পর সব ব্যালট ভোট ডাকাতদের হাতে তুলে দেয়ার কথা বলিনি। তবে কিছু ঝামেলা হয়েছিল, ইউএনওকে জানানোর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বেসরকারি ফল অনুযায়ী নৌকার প্রার্থী এবিএম মোস্তাকিম ৭৫ হাজার ৩৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনারস প্রতীকের শহিদুল ইসলাম পিন্টু পেয়েছেন ৪০ হাজার ৭০৩ ভোট।

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

এদিকে একই দাবি নিয়ে বুধবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আরও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন আশাশুনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কৃষক লীগ সভাপতি স ম সেলিম রেজা।

তিনি বলেন, ৪৮ কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী এবিএম মোস্তাকিম একজন প্রার্থীর সঙ্গে প্যানেল করে ভোট ডাকাতি করিয়েছেন। এ সময় কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়। জোর করে সিল মারার সময় কয়েকজনকে জনগণ ধরে ফেললেও কোনো প্রতিকার হয়নি।

এসব ঘটনার সময় রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ওসির কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। তিনি আশাশুনিতে পুনরায় ভোট দাবি করেন।

এ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে অসীম বরণ চক্রবর্তী ৪৪ হাজার ৭৫৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে অভিযোগকারী স ম সেলিম রেজা পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯০ ভোট।

ঘটনাপ্রবাহ : উপজেলা নির্বাচন ২০১৯

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×