ছাতকে ‘রাক্ষস’ আতঙ্ক!

  ছাতক (সুনামগঞ্জ )প্রতিনিধি ৩০ মার্চ ২০১৯, ২২:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

ছাতকে কয়েকটি এলাকায় ক’দিন ধরে চলছে রাক্ষস আতঙ্ক। ‘এলাকায় রাক্ষস এসেছে, রাক্ষসে জীবন্ত গরু-ছাগল এমনকি মানুষকে চিবিয়ে খেয়ে ফেলছে।’ এমন খবরে কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ঝড় বই‌ছে।

তবে স্থানীয় সচেতন মহল এ বিষয়টাকে গুজব ও হাস্যকর দাবি করলেও কেউ কেউ এটাকে বিশ্বাস করে রাক্ষস থেকে রক্ষা পেতে নিজের আত্মীয়স্বজনকে মুঠোফোনে সতর্ক করে দেয়া হ‌চ্ছে।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া শামনগর গ্রামের জিয়াউর রহমান নামের এক যুবককে নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘জীবন্ত একটি গরু জবেহ ব্যতীত খেয়ে ফেলল এক যুবক’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এমন সংবাদে ছাতক, ‌দোয়ারাবাজার, বিশ্বনাথ, দ‌ক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার কিছুদিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে সিংচাপইড় ইউনিয়নের চাউলী হাওরে সৈদেরগাঁও গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে তানজুল মিয়ার (২২) এক অজ্ঞাত কারো সাথে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তাৎক্ষণিক প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাননি। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় লোকজন এলাকায় দিরাইয়ের কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া শামনগর গ্রামের ওই ‘রাক্ষস’ এর আগমন ঘটেছে বলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

সিংচাপইড় ইউনিয়নের গহরপুর, মহদী, মামদপুর, সিংচাপইড়, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মায়েরকুল, খুরমা, কাশিপুর, দোলারবাজার ইউনিয়নের রাউলী, কাটাশলা ও কুর্শি গ্রামের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে জানান, শুক্রবার সকাল থেকে লোকমুখে শুনছেন এলাকায় নাকি মানুষরূপী রাক্ষসের আগমন ঘটেছে। যা অদৃশ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সম্প্রতি ওই রাক্ষস নাকি তার মা-সহ এলাকার একাধিক গবাদিপশু খেয়ে এসেছে। তবে এসব উড়ো খবরে বড়রা কেউ কর্ণপাত না করলেও শিশুরা কিছুটা আতংকিত হয়ে পড়েছে বলে ‌শিক্ষক-শি‌ক্ষিকারা জানান।

এ ব্যাপারে সৈদেরগাঁও গ্রামের সৈয়দ আলমগীর আহমদ এলাকায় রাক্ষস আসার বিষয়টি গুজব দাবি করে জানান, এক বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ঘটনার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চাউলী হাওরের বেড়িবাঁধ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তানজুলকে অজ্ঞাত কেউ একজন জড়িয়ে ধরেছিল। এতে ভয় পেয়ে ধস্তাধস্তি করে ঘটনাস্থল থেকে সে পালিয়ে আসে। এ ঘটনাকে তার পরিবারের লোকজন জিন-ভূতসংক্রান্ত দাবি করলেও কতিপয় দুষ্ট লোক ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে এলাকায় এসব মিথ্যা ও আজগুবি ঘটনা রটাচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×