ফসল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সময় লাগবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

হাওর পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক
হাওর পরিদর্শনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছেন, ‘হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় এক দিনে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব নয়। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ আলাদিনের চেরাগ না যে, সুইচ টিপলেই হয়ে যাবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে সময় লাগবে।’

বুধবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলার বিভিন্ন বোরো ফসলি বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

একই দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত স্পিডবোটে সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিভিন্ন উপজেলার একাধিক হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী।

স্থায়ী ফসলরক্ষা বাঁধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা হাওরে বাঁধ নির্মাণ করে পর্যবেক্ষণ করে দেখছি আজ যেখানে বাঁধ দেয়া হলো সেটি আগামী বছর টিকছে কি না। যদি বাঁধ টিকে যায় তাহলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। বোরো ফসল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে সময় লাগবে। এটি এক বছর বা এক দিনে হবে না।

তিনি বলেন, স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করছি। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে অনেক টাকা দরকার। আগে যে কাজগুলো হয়নি আমরা সেগুলো করছি। বাঁধে জিও টেক্সটাইলের ব্যাগ ও ব্লক ফেলা হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে আমরা আরও ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে পারব।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের ওপাড়ে যখন বর্ষা হয়, পাহাড়ি পানির ঢল যখন নামে, তখন কোনো কিছুতে পানি ঠেকানো যায় না। ঢলের পানি বাঁধের ওপর দিয়ে চলে আসে। হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ ৬ দশমিক ৫ ফুট উচ্চতার পানি ঠেকাতে পারবে। কিন্তু অনেক জায়গায় ৭ থেকে ৮ ফুট উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের মতো ঢল নামলে পানি ওপর দিয়ে চলে আসবে। বন্যায় সব ফসল প্লাবিত হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য হলো ফসল তোলার আগে পর্যন্ত পানি ঠেকিয়ে রাখা। ফসল মানুষের ঘরে উঠে গেলে আমাদের বাঁধ নির্মাণ সার্থক হয়। প্রতিমন্ত্রী ধর্মপাশা, জামালগঞ্জ ও তাহিরপুর উপজেলার চন্দ্রসোনার থাল, জয়ধুনা, ধানকুনিয়া ও হালির হাওরের ফসল এবং নেত্রকোনা জেলার ডিঙ্গাপুতা হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন।

এ সময় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মন্টু কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া, খুশিমোহন সরকারসহ জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

উল্লেখ্য, ৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যায়ে চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জের ৪২টি হাওরে ৫৭২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ৪৫০ কিলোমিটার বোরো ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বোরো মৌসুমে সারা জেলায় ২ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাতের বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।

এতে ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা, যার বাজারমূল্য হবে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। এসব বাঁধের মধ্যে সুনামগঞ্জ পওর (পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ)-১ এর অধীনে ১৯৮ কিলোমিটার ও পওর-২ এর অধীনে ২৫২ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×