গোপালগঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

  গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:১১ | অনলাইন সংস্করণ

গোপালগঞ্জের বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি
শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের ঘটনায় ক্যাম্পাসে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: যুগান্তর

দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাস আলীকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক আক্কাস আলীকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধানের পদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নূর উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী যৌন নিপীড়নের ওই ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম খানকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের সহকারী আধ্যাপক ঈশিতা রায়, এপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. কামরুজ্জামান এবং ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. বশিরউদ্দিন।

আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে কমিটিকে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে রোববার সকাল থেকে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক মো. আক্কাস আলীকে চাকরিচ্যুত ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে থাকে। এ সময় দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবিগুলোর মধ্যে ছিল- ভুক্তভোগী ছাত্রীদের যাতে আর কোনো হয়রানি না করা হয় তার নিশ্চয়তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক ছাত্রীদের কার্যদিবস ব্যতীত অফিস ছাড়া অন্য কোথাও ডাকতে পারবেন না, কোনো শিক্ষার্থীকে কোনো শিক্ষক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিতে পারবেন না, এরকম কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ডিপার্টমেন্টভিত্তিক ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিপীড়নের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রী ওই বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড়।পরে প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে শুক্র ও শনিবার কোনো ছাত্রীকে ডাকতে পারবেন না অভিযুক্ত ওই শিক্ষক এবং তিনি আর কোনো ছাত্রীকে থিসিস করাতে পারবেন না বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়ার ঘোষণা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তকে হাস্যকর ও প্রহসনমূলক বলে মন্তব্য করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

এদিকে শনিবার ওই শিক্ষক কর্তৃক দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অডিও রেকর্ড ভাইরাল হওয়ায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়। ক্যাম্পাসজুড়ে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। রোববার সকাল থেকে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুতসহ পাঁচ দফা দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেন তারা। ফলে গোটা ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি গঠনসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে ওই শিক্ষককে অব্যাহতি প্রদান এবং সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×