আত্মসমর্পণের পর ৬ শতাধিক চরমপন্থীকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে

  পাবনা প্রতিনিধি ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু

দীর্ঘ ২০ বছর পর ২য় দফায় দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলার ৬ শতাধিক চরমপন্থী নেতাকর্মী আত্মসমর্পণ করছেন। এই আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে যাচ্ছেন।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার পাবনায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদেরকে যোগ্যতা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

রোববার পাবনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ফেলে যেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাইবে সরকার তার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু কোনো অন্যায় কাজে জড়িত থাকলে তার আর কোন রেহাই নাই।

টুকু বলেন, আত্মসমর্পণের পর আত্মনির্ভরশীল করতে সরকারিভাবে তাদেরকে আর্থিক প্রণোদনাসহ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। আবারও তারা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে কিনা, সে ব্যাপারেও নজরদারি থাকবে। সরকারের স্বক্ষমতা অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাওয়া এসব মানুষদের সহযোগিতা করা হবে।

চরমপন্থীদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান সফল করতে গণমাধ্যমকর্মীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন শামসুল হক টুকু।

পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ১৫ জেলা থেকে ৬ শতাধিক চরমপন্থী সন্ত্রাসীর একটি তালিকা প্রস্তত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর তাদেরকে আত্মসমর্পনের সুযোগ দেয়া হয়। পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, খুলনা, নড়াইল, যশোর, সাতক্ষিরা ও জয়পুরহাট জেলার চরমপন্থীরা আত্মসমর্পণ করবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এসব জেলা থেকে প্রায় সাড়ে ৬শ’ চরমপন্থী নেতকর্মীর আত্মসমর্পণ করার তালিকা করা হয়। কিন্ত প্রতিদিনই এই সংখ্যা আরও বাড়ছে বলে পুলিশের একটি সুত্র জানায়।

সুত্রটি আরও জানায়, যারা আত্মসমর্পণ করবেন তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ পুলিশের কাছে জমা দিবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ নিজ নিজ দায়িত্ব তাদের অঞ্চল থেকে আত্মসমর্পণকারী তালিকাভুক্তদের পাবনায় নিয়ে আসবেন। এ জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করছেন পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর হাতে অস্ত্র জমা দেয়ার মাধ্যমে এসব চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করবেন। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, আত্মসমর্পণকারী চরমপন্থী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আগের যেসব মামলা রয়েছে সেগুলো সহজিকরণ করে দেখা হবে। এ ছাড়া তাদের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়া হবে। আত্মসমর্পণকারীদের রাখার বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মকর্তাদের সমম্বয়ে গঠিত সেন্ট্রাল কমিটি সিদ্ধান্ত নেবেন।

মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি থাকবেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, পাবনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নাদিরা ইয়াছমিন জলি, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন, পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন।

এদিকে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানকে সফল করতে পাবনা পুলিশের পক্ষ থেকে সব প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগও এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে দফায় দফায় প্রস্ততিমূলক সভা করছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স জানান, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানকে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে ব্যাপক জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান শেষে কনসার্টে গান গাইবেন মমতাজ এমপি।

প্রসঙ্গত, ২০ বছর আগে ১৯৯৯ সালে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ৪ শতাধিক চরমপস্থি নেতা-কর্মী সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের উদ্যোগে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।

সুত্র মতে, ৩ দশক আগে পাবনাসহ উত্তর-দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থীদের চরম দৌরাত্ম্য দেখা দেয়। এ সময় তাদের হাতে কয়েকশ’ মানুষ খুন হন। পাবনার দুর্গম ঢালার চরে চরমপন্থীদের ব্রাশ ফায়ারে এসআই কফিলসহ পুলিশ নিহত হন। এর কয়েক বছর আগে নিহত হন এসআই হেদায়েত। রাজশাহীর বাগমারায় পুলিশ ক্যাম্প লুটসহ ৫ পুলিশ নিহত হন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সাম্প্রতিককালে চরমপন্থীরা আবার মাথাচাঁড়া দিয়ে ওঠায় সরকার তাদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ দেয়। এ দিকে চরমপন্থি নেতা ও কর্মী আত্মসমর্পণ উপলক্ষে পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব প্রস্তুতিমূলক সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিগণ থাকছেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×