আতংকে আর সেই বিদ্যালয়ে আসছে না শিক্ষার্থীরা!

  আমতলী ও তালতলী প্রতিনিধি ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার তালতলী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
বরগুনার তালতলী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি সংগৃহীত

বরগুনার তালতলী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ছাদের বিম ধসে মানসুরা নামের এক ছাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও ৯ জন আহত হয়েছে।

নির্মম এ ঘটনার পর ভবনের ছাদের বিম ধসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।তাই রোববার অনেকে শিক্ষার্থীরাই বিদ্যালয়ে আসছে না। উৎকন্ঠায় রয়েছেন অভিভাবকরাও। এ ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করেছে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাই আতঙ্কে বিদ্যালয়ে আসে না শিক্ষার্থী।

নিহত মানসুরার বাবা নজির তালুকদার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করায় আমার মেয়ের অকালে জীবন হারাতে হয়েছে। ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশল বিভাগ ভবন নির্মাণে যারা গাফলতি করেছে তাদের বিচারের দাবি জানান তিনি।

আরেক অভিভাবক শহীদুল্লাহ বলেন, ভয়ে আমরা আমাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাইনি। যতদিন বিদ্যালয় ভবনের সমস্যা সমাধান না হবে ততদিনে ওই বিদ্যালয়ে আমাদের সন্তান পাঠাবো না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মো. শাকেরিন জাহান বলেন, রোববার ডিডি, ডিপিও, ইউএনও ও প্রকৌশলী বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত মানসুরার বাড়ী গিয়ে শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শনিবার প্রথম শিফটের ক্লাস শেষে দ্বিতীয় শিফটের ক্লাস শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় তৃতীয় শ্রেণির বাংলা বিষয়ের ক্লাস চলছিল। ওই শ্রেণির ১৯ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। এ সময় বিদ্যালয় ভবনের ওই কক্ষের ছাদের বিম ধসে শিক্ষার্থীদের মাথায় পড়ে।

এতে ১০ শিক্ষার্থী মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লেগে আহত হয়। গুরুতর আহত মানসুরা, সাদিয়া, ইসমাইল ও রুমাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে ছুরিকাটা নামক স্থানে আহত মানসুরার মারা যায়। রাতে জানাযা শেষে মানসুরার লাশ গ্রামের বাড়ি কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের গেন্ডামারা নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

অপর আহত সাদিয়া, ইসমাইল ও রুমা আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

প্রসঙ্গত, উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০২ সালে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ স্কুল ভবন নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেতু এন্টার প্রাইজ। ওই সময় ভবনটি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ভবন নির্মাণ করেছে এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। নির্মাণের পাঁচ বছরের মাথায় ওই ভবনের বিমে ফাটল ধরে পলেস্তারা খসে পড়ে। ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ তালিকায় অর্ন্তভূক্ত হয়।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×