পাবনায় এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক

  পাবনা প্রতিনিধি ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক।
এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক। ছবি যুগান্তর

পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে এবার ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পাবনা সরকারি মহিলা কলেজ ও সেন্ট্রাল গার্লস স্কুলকেন্দ্র থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও তারা অন্তরের চক্ষু দিয়ে শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

যেসব প্রতিবন্ধী যুবক এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তারা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার সুশেল চন্দ ধর এর ছেলে চন্দন কুমার ধর, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মোক্তার সরকারের ছেলে মো. হারুনার রশিদ, পাবনা সদর উপজেলার মহেন্দ্রপুর গ্রামের সিদ্দিক হোসেনের ছেলে মো. কাওসার হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তৌরিকুল ইসলাম এর ছেলে আব্দুল মতিন, গাজিপুর জেলার গোলজার হোসেনের ছেলে মো. মাহমুদুল হাসান শাউন, নওগাঁ জেলার টিপু সুলতান এর ছেলে মো. মাহবুব জামান, সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার হাবিবুর রহমান এর ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তৈয়মুর রহমান এর ছেলে আব্দুর সবুর, গোলাম মস্তফার ছেলে আনারুর ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলার বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাদিম হোসেন, টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী গ্রামের শ্যামল চন্দ্রের ছেলে ভোলানাথ।

এই ১১ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনা শহরতলীর সিঙ্গা গ্রামের মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে আলোকিত মানুষ হওয়ার জন্য এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

এর আগে তারা এখান থেকে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হন।

মানবকল্যাণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, এরা সবাই দরিদ্র ঘরের সন্তান। অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। চোখে দেখে না অন্ধরা। এ জন্য তাদের পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতিলেখকের।

শ্রুতিলেখকদের তাদের সন্মানী দিতে হয় ৮-১০ হাজার টাকা। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতিলেখক সম্মানী প্রদান তো দূরের কথা লেখাপড়া করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই।

এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবক জানান, শিক্ষাবোর্ড থেকে শ্রুতিলেখকদের অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা এবং বিভিন্ন বোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালার কারণে পদে পদে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

তারপরেও থেমে থাকছে না এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষাজীবন।

দরিদ্র এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের আর্থসামাজিক প্রতিকূলতা। কিন্ত সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। এই ১১ জন পরীক্ষর্থীর মত আরও প্রায় ৮০ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন।

এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ জন পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা ও ২ জন এমএ সহ মোট ১৮৫ জন বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে এই প্রতিষ্ঠানের কথা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিবন্ধী ছাত্র ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। এ প্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের প্রতিবন্ধী ছাত্রদের আশ্রয় দিয়ে স¤পূর্ণ খরচমুক্তভাবে তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তার স্বপ্ন ছাত্রদের আবাসনজনিত সংকটের কারণে নির্মাণাধীন ৫ তলা ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, একটি ফ্রি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন এবং অসহায় প্রবীণদের জন্য একটি বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা করা।

মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন ১৯৯৪ সাল থেকে স্ব-উদ্যোগে মেধা ও শ্রম দিয়ে প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীর জন্য এই অলাভজনক কাজটি করে আসছেন। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনাবাসিক বিভিন্ন জেলার ১২ জনদৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীকে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে সারা দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী গোষ্ঠীর সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে পাবনার এই আলোকিত মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠানটি।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×