নরসিংদীতে ৪ নারী দগ্ধের ঘটনায় মামলা, আটক ২

  নরসিংদী প্রতিনিধি ১০ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২২ | অনলাইন সংস্করণ

নরসিংদীর রায়পুরার লোচনপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়েছেন তিন বোনসহ একই পরিবারের চারজন
নরসিংদীর রায়পুরার লোচনপুর গ্রামে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে দগ্ধ হয়েছেন তিন বোনসহ একই পরিবারের চারজন

নরসিংদীর রায়পুরায় একই পরিবারের ৪ নারীকে আগুনে দগ্ধের ঘটনায় ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে ৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন দগ্ধদের বড় বোন রত্না আক্তার।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ওসি মহসিনুল কবির জানান, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে প্রতিবেশী রবিনকে। মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন শিপন, মামুন, কাজল, লোকমান ও অজ্ঞাত নামা আরও ২ জন। এদের মধ্যে রবিন ও মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার উত্তর বাখননগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামে মৃত সামসুল মিয়ার ছেলে বিপ্লবদের বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দগ্ধের স্বজনরা বলছেন, ঘরে পেট্রলবোমা মারা হয়েছে। সেই আগুনে ৪ জন দগ্ধ হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, ঘটনাস্থলে বড় ধরনের কোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি। আর পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে পেট্রল বা তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

দগ্ধদের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের তিন বোন। তারা হলো উপজেলার লোচনপুর গ্রামের সামসুল মিয়ার মেয়ে ও বিপ্লবের ছোট বোন ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী প্রীতি আক্তার (১১), এসএসসি পরীক্ষার্থী মুক্তামণি (১৬), অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুইটি আক্তার (১৩)। দগ্ধ অন্যজন তাদের ফুফু খাতুন্নেছা (৬০)।

স্থানীয়রা জানায়, জমিসক্রান্ত বিরোধ নিয়ে লোচনপুর গ্রামের দুলাল মিয়াদের সঙ্গে একই গ্রামের মৃত সামসুল মিয়ার ছেলে বিপ্লবদের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুপক্ষের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষ দুলাল মিয়া খুন হয়। এরপর থেকে বিপ্লবদের গোটা পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অভিযুক্ত বিপ্লব হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় পলাতক রয়েছেন। বিপ্লব মিয়ার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা না থাকায় সোমবার ফুফুকে নিয়ে বিপ্লবের তিন বোন নিজ বাড়িতে আসেন। আগেই প্রতিপক্ষের আগুনে পোড়া অবশিষ্ট একটি ঘরে রাতযাপন করেন ফুফুসহ চারজন।

মঙ্গলবার ভোররাতে ঘরের চারপাশে আগুন ধরে যায়। এতে নিজ বাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ হয় বিপ্লব মিয়ার পরিবারের তিন বোন ও ফুফু। তবে কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটেছে তা জানাতে পারেননি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে নরসিংদী পুলিশ সুপার মেরাজ উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিউর রহমান, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

দগ্ধ তিন বোনের মধ্যে বড় বোন রত্না আক্তার জানায়, প্রতিবেশী শিপন, কাজলদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে তাদের বিরোধ চলছিল। অনেক দিন আগে রায়পুরায় হত্যা মামলার মিথ্যা আসামি করা হয় তার দুই ভাই সোহাগ ও বিপ্লবকে। এখন তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এরপর থেকে প্রতিপক্ষরা নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। সর্বশেষ তারা এ ঘটনা ঘটায়।

রত্মা বলে, মঙ্গলবার ভোরে সবাই বাসায় ঘুমিয়ে ছিল। তখন পাশের বাড়ির শিপন, কাজল, রবিন, লোকমানসহ কয়েকজন তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বিপ্লবের বড় বোনের শাশুড়ি রুমেনা বেগম বলেন, ছেলের বউ আমাকে বলেছে তাদের ঘরে পেট্রলবোমা মারা হয়েছে। তখন আগুনে বাড়ির ৪ জন দগ্ধ হয়েছে। তাদের ঢাকায় নেয়া হচ্ছে। এই খবর পেয়ে আমি এখানে এসেছি।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে পেট্রলের ঘ্রাণ বা তার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দগ্ধদের বিরোধ রয়েছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়। এরপর থেকে ভিকটিম বাড়িতে থাকতেন না। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামুন ও রবিন নামে দুজনকে আটক করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের মেডিকেল অফিসার ডা. এনায়েত কবির সাংবাদিকদের বলেন, চারজন দগ্ধ রোগীর সবার দুই হাতসহ মুখ পুড়ে শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে খাতুন্নেছার ১২ শতাংশ, প্রীতির ১৫ শতাংশ, মুক্তামণির ১০ শতাংশ, সুইটির ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×