‘রাজাকারদের মতো ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মুখেও থুতু দেন’

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০০ | অনলাইন সংস্করণ

মাদক, দুর্নীতি, অর্থ ও মানব পাচারবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন
মাদক, দুর্নীতি, অর্থ ও মানব পাচারবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেছেন, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন। তাদের আর সম্মানিত করবেন না। তাদের মুখে রাজাকারদের মতো থুতু ছিটিয়ে দিন।

ইয়াবা ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আত্মসমর্পণ করুন নইলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন।

শুক্রবার বিকালে টেকনাফ পৌরসভার পানবাজার এলাকায় জেলা পুলিশের উদ্যোগে মাদক, দুর্নীতি, অর্থ ও মানব পাচারবিরোধী সচেতনতামূলক সভায় পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চোরের ১০ দিন গৃহস্থের একদিন। চোর ১০ দিন চুরি করবে কিন্তু একদিন ঠিকই ধরা পড়বেন। ইয়াবা আনবেন, আলিশান বাড়ি করবেন ঠিকই একদিন ধরা পড়বেন। কাজেই আপনি যতো কৌশলে ইয়াবার কারবার চালিয়ে যান না কেন একদিন না একদিন আপনি আইনের হাতে ধরা পড়বেনই।

ইয়াবা কারবারিদের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য টেকনাফবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এসপি। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেন কেউ কাউকে ইয়াবা কারবারি বানানোর চেষ্টা না করেন।

উপস্থিত দর্শকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটিতে কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ী থাকলে তাদের তথ্য দিন তাদেরকে টেনে নামানোর ব্যবস্থা করা হবে। তাছাড়া কোন চেয়ারম্যান-মেম্বার জনপ্রতিনিধিত্বের দোহাই দিয়ে যদি ইয়াবা ব্যবসা করেন তাহলে তাদেরও রেহাই নেই বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে এসপি বলেন, বেশির ভাগ সংবাদকর্মী ভালো কাজ করছেন, ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে কাজ করছেন, তবে দুয়েকজন আছেন উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অনেক ভদ্রলোককে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা সমাজের চোখ। আপনাদের কলম দিয়ে যেন কোনো নিরীহ লোক হয়রানি না হয়। তাই আপনারা লেখার সময় যাচাই-বাছাই করে লিখবেন।

ইয়াবা কারবারে জড়িত রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান এসপি। যে কোনো মূল্যে টেকনাফকে কলংকমুক্ত করা হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়া বলেন, প্রায় ৭০ ভাগ ইয়াবা নির্মূল হয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে চেষ্টা করলে বাকি ৩০ ভাগ ইয়াবাও নির্মূল করা সম্ভব হবে। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াকে সফল করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

যদি ভুলে নিরীহ কারো নাম ইয়াবা ব্যবসায়ীর তালিকায় উঠে থাকে তবে অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে তাদের নাম বাদ দেয়ার জন্য আহ্বান জানান নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, আমি টেকনাফে থাকি, টেকনাফে খাই, তাই আমি ইয়াবা মুক্ত নিঃশ্বাস নিতে চাই। যারা এতে বাদ সাধবে আমি তাদের নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেব। সভা সফল করায় তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীক কুমার দাশের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য মো. শফিক মিয়া, নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আলম, কমিউনিটি পুলিশ সভাপতি নুরুল হুদা, টেকনাফ জামেয়া মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি কিফায়ুতুল্লাহ শফিক, সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন প্রমুখ।

ঘটনাপ্রবাহ : মাদকবিরোধী অভিযান ২০১৮

আরও
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×