ধলেশ্বরী নদীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

হুমায়ুন কবির সরকার। ছবি-সংগৃহীত

রাজধানীর সাভারের ধলেশ্বরী নদী থেকে হুমায়ুন কবির সরকার নামে এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। 

রোববার সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পানপাড়া এলাকায় ওই নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, হুমায়ুনকে কুপিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

হুমায়ুন কবির সরকার (৪০) সাভারের ভরারি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ব্যবসা করতেন।

সাভার ট্যানারি ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) অখিল রঞ্জন সরকার বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে হুমায়ুন কবির সরকার স্থানীয় রাজফুলবাড়িয়া বাজারে তার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে একই এলাকার ফারুক হোসেন ওরফে পারভেজ ও আলমগীরের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৩২ জন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করেন। 

তিনি বলেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী নদীতে লাফিয়ে পড়ে সাঁতরে অপর পাড়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ট্রলার নিয়ে পারভেজ ও আলমগীর তাঁদের লোকজনসহ হুমায়ুনকে ধরে পানির মধ্যেই এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। একপর্যায়ে টেটাবিদ্ধ করে তাঁকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বয়ানে পুলিশ এসব তথ্য জেনেছে বলে তিনি জানান।

মামলার বাদী হুমায়ুনের ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, পারভেজ ও আলমগীর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তাদের অপকর্মে বাধা দেওয়ায় তারা তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা বলেন, পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে হুমায়ুন কবিরকে হত্যার অভিযোগ করা হলেও তার লাশ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ও স্থানীয় লোকজন নদীতে তল্লাশি করে লাশের হদিস করতে পারেনি। 

রোববার সকালে পানপাড়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে তার লাশ ভেসে ওঠে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার হুমায়ুন কবিরের ভাই জাহাঙ্গীর আলম সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ফারুক হোসেন ওরফে পারভেজ, আলমগীরসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৩২ জনকে আসামি করা হয়।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মামলা দায়েরের পর ওই দিন রাতেই আমিরুল ইসলাম (৩৭), সজিব (১৯), ট্রলারের মাঝি মোশারফ হোসেন (৪৫), রুস্তম আলী (৩২) ও দেলোয়ার হোসেনকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। গতকাল শনিবার তাঁদের ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করে আমিরুল ও দেলোয়ারের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত তাদের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সজিব ও মোশারফ হোসেন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ায় আর রুস্তম অসুস্থ থাকায় আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন।

ট্যানারি ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক গোলাম নবী বলেন, পারভেজ, আলমগীর ও হুমায়ুন কবীর একসময় একই দলভুক্ত ছিলেন। নানা কারণে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। সম্ভবত ওই দ্বন্দ্বের জের ধরেই হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয়েছে।