হঠাৎ ভিক্ষুকের বাড়িতে ইউএনও

  বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

হঠাৎ ভিক্ষুকের বাড়িতে ইউএনও
হঠাৎ ভিক্ষুকের বাড়িতে ইউএনও। ছবি: যুগান্তর

সময় দুপুর ১২টা। ভিক্ষাবৃত্তি করা শ্রী জানো বালার (৭৫) বাড়িতে হঠাৎ উপস্থিত বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমান।

শ্রী জানো বালার তখন দরজার পাশে বসে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইলেন। জানো বালা থাকেন ছেলের ঘরের বারান্দায় এলোমেলো একটি বিছানায়। পরে জানো বালাকে একটি থাকার ঘর আর তার নাতনিকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করার ঘোষণা দেন ইউএনও।

শুধু জানো বালা নয়- ইউএনও একে একে খোঁজ নেন জামেনা, নিন্দুবালা, কাঞ্চন বালা, মিরবালা, খতেজা, রাফিয়া, মজিরনসহ আরও অনেকের।

মঙ্গলবার এভাবেই দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ও তাদের পুনর্বাসন করতে তাদের বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিলেন ইউএনও মো. তৌহিদুর রহমান।

ভিক্ষাবৃত্তি করা কাটলা ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিরামপুর গ্রামের মিরবালার (৭০) সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান,স্বামী মারা যাওয়ার পর পেটের দায়ে তিনি ভিক্ষা করেন দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে। তার এক ছেলে উজ্জ্বল রায় নিজের সংসার নিয়ে আলাদা থাকে। ছেলে ভাঙা একটি ঘরে থাকলেও শুতে হয় মাটিতে। পরে ইউএনও তাকেও একটি ঘর আর ছেলে উজ্জ্বল রায়কে একটি ভ্যানগাড়ি দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় ইউএনও সঙ্গে ছিলেন-উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুন নাহার, ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সমন্ময়কারী উপজেলা কো-অর্ডিনেটর বিদ্যুৎ কুমার মণ্ডল,ফিল্ড সুপারভাইজার ধনঞ্জয় চন্দ্র রায়,মাঠ সহকারী সুদেব চন্দ্র রায়,জাকস ফাউন্ডেশন কাটলা শাখার ম্যানেজার ,কাটলা আশা অফিসের সহকারী ম্যনেজার,বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

ইউএনও তৌহিদুর রহমান বলেন, বিরামপুরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে তাদের পুনর্বাসনের কোনো বিকল্প নেই। তাই সরকারের পক্ষ থেকে তাদের যতটুকু সম্ভব সহায়তা করে তাদের ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বের করে আনতে হবে। এই কাজে সরকারের একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়, সমাজের সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি জানান, 'তাদের পুনর্বাসনের লক্ষে কাউকে বিধবা ভাতা, কাউকে ভিজিএফ, কাউকে ভিজিডি, আবার কাউকে ১০ টাকা কেজি চাল এবং কার্ডের আওতায় আনা হবে।'

ইউএনও বলেন, যাদের ছেলেসন্তান রয়েছে তাদের ভ্যানগাড়ি ক্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে। তবে এটা করতে একটু সময় লাগবে।

স্থানীয় কাটলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাজির হোসেন জানান, ইউনিয়নের ২৯ জন ভিক্ষুক রয়েছেন। তাদের এই ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত করতে ইউপির পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×