বগুড়ায় গৃহবধূকে হত্যার পর রাস্তায় লাশ ফেলে পালাল স্বামী

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  বগুড়া ব্যুরো

বগুড়ার পল্লীতে যৌতুক না পেয়ে জেমি খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূকে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বেলা ১০টার দিকে সদর উপজেলার বড় কুমিড়া জিলাদারপাড়ায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্বামী গ্রিলমিস্ত্রি মাদকাসক্ত সানোয়ার হোসেন ও অন্যরা রাস্তায় লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে।

সদর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

সদর থানার এসআই রহিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শ্বাসরোধে ওই গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের পরিবারও একই দাবি করছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বগুড়া সদরের বড় কুমিড়া জিলাদারপাড়ার আবদুল লতিফের ছেলে গ্রিলমিস্ত্রি সানোয়ার হোসেন প্রায় ৭ বছর আগে পার্শ্ববর্তী এরুলিয়ার কৃষ্ণপুর গ্রামের ধলু শেখের মেয়ে জেমি খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে প্রায় ৩ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

জেমির মা নেহারা বেগম ও বোন সুইটি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে জেমিকে মাদকাসক্ত স্বামী সানোয়ার নির্যাতন করে আসছে। দুবার তালাক দেয়ার পর আবার জোর করে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে খবর পান শ্বশুরবাড়ির কাছে রাস্তায় জেমির লাশ পড়ে আছে। সেখানে গিয়ে তারা জেমির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। তাদের বিশ্বাস স্বামী সানোয়ার, শ্বশুর লতিফ, শাশুড়ি আঞ্জু ও অন্যরা মারপিট এবং গলা টিপে তাকে হত্যা করেছে। তারা এ ব্যাপারে অবশ্যই থানায় হত্যা মামলা করবেন।

সদর থানার এসআই রহিম উদ্দিন জানান, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন জেমির লাশ নিয়ে হাসপাতাল বা অন্য কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে জনগণ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা লাশ ফেলে কৌশলে সটকে পড়েন।

তিনি জানান, গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় ধারণা করা হচ্ছে- মাদকাসক্ত স্বামী তাকে স্বাসরোধে হত্যা করেছে। তারপরও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।