জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সাবেক এমপি আবদুল মজিদ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ১২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট, তাহিরপুর

সুনামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মাস্টার। ছবি: যুগান্তর

সুনামগঞ্জের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মানুষ গড়ার কারিগর সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মাস্টার এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

বুধবার রাতে সাবেক এমপির ছেলে অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল তার বাবার আশু সুস্থতা কামনা করে এ সংকটাপন্ন সময়ে সুনামগঞ্জ জেলাসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিদ মাস্টার গত ১০ দিন ধরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টজনিত কারণে আইএলডি রোগে ভুগছিলেন। 

উল্লেখ্য, বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মাস্টার জেলা তথা ছাতক-দোয়ারাবাজার উপজেলার এক বর্ষীয়ান ও কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ। 

তিনি '৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ১৯৯১ সালে সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে তিনি ওই আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 

১৯৮০ সালে শিক্ষকতার পেশায় মনোনিবেশ করে টানা ১০ বছর দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। 
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি অনুন্নত ও শিক্ষাবঞ্চিত এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেয়ার এক প্রাণ পুরুষ।

পরে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার সময়ে দোয়ারবাজার উপজেলার পুরো রূপরেখা প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে উপজেলায় প্রথম বিদ্যুতায়নসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়। 

তার আমলে দোয়ারাবাজার কলেজ বর্তমানে দোয়ারাবাজার সরকারি কলেজ, দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা সদরে প্রথম বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ তার হাত ধরেই ওইসব প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প আলোর মুখ দেখে। 

সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে তিনি এখনও জেলাবাসীর কাছে স্বজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব।

১৯৮৯ সালে তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি আইন পেশায় জড়িত হন। তার পেশায় তিনি এখনো সফল ব্যক্তি। মূলত আইন পেশা থেকে তিনি সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এক কর্মদক্ষ ব্যক্তি হিসেবে সুনামগঞ্জে সব মহলে সমানভাবে সমাদৃত। 

২০০৯ সাল থেকে ৫ বছর তিনি সুনামগঞ্জ জজকোর্টের  কৌঁসুলির (পিপি) দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক পরিসরে তার রয়েছে ব্যাপক বিচরণ। জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় মূল্যবোধের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত পল্লীবন্ধু আলহাজ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে তিনি শুরু থেকেই জড়িত। 

দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেলা জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলাজুড়ে জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করেন।

২০০৯ সালে সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য বেগম মমতাজ ইকবালের মৃত্যুর পর তিনি জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নির্বাচিত হন।

এ ছাড়া তিনি জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। 

বর্তমানে তিনি দোয়ারাবাজার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে আছেন।