বগুড়ায় হত্যা মামলায় একই পরিবারের ৪ জনসহ পাঁচজনকে ফাঁসি

  বগুড়া ব্যুরো ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২১ | অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ায় হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের কয়েকজন
বগুড়ায় হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের কয়েকজন

বগুড়ার গাবতলীর বাহাদুরপুর গ্রামে সাবেক সেনা সদস্য ইয়াসিন আলী মোল্লাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা মামলায় বাবা, ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ ৫ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের অনুমোদনসাপেক্ষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাদের রশিতে ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।

একই মামলায় দুজন পলাতকসহ চারজনকে কারাদণ্ড ও অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে জেলা ও দায়রা জজ নরেশ চন্দ্র সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৬৯) ও আবদুর রহিম (৬০), ইসমাইল হোসেনের দুই ছেলে মো. মামুন (৪৩) ও জুলফিকার আলী টুটুল (৩৫) এবং ময়েজ মোল্লার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫৫)। আসামি শাহজাহান আলী সাজু ও মো. শিপনসহ প্রত্যেককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

পলাতক আসামি মো. সোহাগকে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া পলাতক রওশন আলীকে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাস সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়।

পলাতক দুজনের সাজা গ্রেফতারের পর থেকে কার্যকর হবে। মেয়াদী কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা সাজা ঘোষণার আগে জেলে থাকার সময় রেহাই পাবেন।

খালাসপ্রাপ্তরা ১০ জন হলেন রবিন, নুর মোহাম্মদ ফটু, আজিজার রহমান, মোফাজ্জল হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, লবির উদ্দিন, মো. বাবু, আবদুস সাত্তার, মো. লিটন ও পলাতক রাফিউল ইসলাম মানিক।

এজাহার চার্জশিট ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম সাবেক সেনা সদস্য ইয়াসিন আলী মোল্লা গত ২০০৬ সালের ৩ জুন গ্রামের আশার আলো সঞ্চয় সমিতি থেকে ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এ টাকা ছিনতাইয়ে বাধা দিলে আসামিরা তার ভাই মিঠুকে বুকে ছুরিকাঘাত করে।

এ ঘটনায় ইয়াসিন আলী আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গাবতলী থানা ২০০৬ সালের ১০ জুন মামলা রেকর্ড করে। তদন্ত চলাকালে ১৩ জুন আসামিরা জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান। ওই বছরের ১৭ জুন বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উল্লিখিত সাজা ও খালাস পাওয়া ১৯ জন এবং আসামি মাকসুদুর রহমান জনি সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইয়াসিন আলী মোল্লার বাড়ির উঠানে আসে। বাধা দিলে তারা ইয়াসিন আলীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওইদিন নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম গাবতলী থানায় ২০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা গাবতলী থানার তৎকালীন এসআই সানোয়ার হোসেন ২০০৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে মাকসুদুর রহমান জনি বাদে ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষী গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ এ রায় ঘোষণা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আবদুল মতিন ও অতিরিক্ত পিপি ফেরদৌস আলম এবং আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম লাল, গোলাম রব্বানী খান রোমান, ইখতিয়ার উদ্দিন, নুরে আলম সিদ্দিকী এবং পলাতকদের পক্ষে হাবিবুজ্জামান হ্যাপি ও রাফিউল ইসলাম মানিক মামলা পরিচালনা করেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×