চাটমোহরের সেই গৌরকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন ইউএনও

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩০ | অনলাইন সংস্করণ

চাটমোহরের সেই গৌরকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন ইউএনও
চাটমোহরের সেই গৌরকে স্কুলে ভর্তি করে দিলেন ইউএনও

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর পাবনার চাটমোহর পৌর শহরের কাজীপাড়া মহল্লার সেই ‘হোটেল বয়’ গৌর চন্দ্র দাসকে স্কুলে ভর্তি করলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নিজের গাড়িতে করে গৌর ও তার মা অলোকা রানী দাসকে নিয়ে সোজা চলে যান চাটমোহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তাকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করেন ইউএনও।

স্কুলের পক্ষ থেকে গৌরের হাতে তুলে দেয়া হয় নতুন বই, খাতা ও কলম। এরপর দেয়া হবে নতুন ড্রেস।

ভর্তি হওয়ার পর ইউএনও গৌরের হাত ধরে ক্লাসে নিয়ে গিয়ে বেঞ্চে বসিয়ে দেন। এ সময় স্কুলে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গৌরের মা অলোকা রানী দাসসহ উপস্থিত সবার চোখ ছিল অশ্রুসজল।

এ ছাড়া উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতরে অলোকা রানী দাসকে সেলাই প্রশিক্ষণের জন্য ভর্তি করেন ইউএনও। পরবর্তীতে তাকে একটি সেলাই মেশিন উপহার ও তাদের জন্য বসতঘর নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে গৌরের পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আবদুল আজিজ, সহকারী শিক্ষক তাসলিমা খাতুনসহ অন্যান্য শিক্ষকমণ্ডলী।

এর আগে ‘ইস্কুলে গেলি সংসার চালাবে কিডা’-এমন শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর হোটেলবয় গৌরের পরিবারের দায়িত্ব নেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার।

এ সময় আবেগতাড়িত কণ্ঠে গৌরের মা যুগান্তরকে বলেন, ‘ইচ্ছে ছিল দুই ছেলেকে পড়াশোনা শেখাব। বড় হয়ে তারা বড় অফিসার হবে। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ায় আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ইউএনও স্যার আমাদের মতো অনাথের জন্য যা করলেন আমি কোনোদিন ভুলব না। এ ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না।’

ইউএনও সরকার অসীম কুমার যুগান্তরকে জানান, ‘গৌরকে স্কুলে এবং তার মাকে সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি করা হয়েছে। সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে তাকে দেয়া হবে সেলাই মেশিন। গৌরের পরিবারের মতো আর যেন কোনো পরিবার এমন করুণ পরিণতির শিকার না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবেই ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তবে সবার আগে মানুষকে মানবিক হতে হবে। আমরা যে যার জায়গা থেকে এগিয়ে এলেই সেটা সম্ভব।’

উল্লেখ্য, আট বছর বয়সী গৌর চন্দ্র দাসের বাবা নির্মল চন্দ্র দাস মারা যাওয়ার পর সংসারে জেঁকে বসে অভাব। দিশেহারা মা অলোকা রানী দাস বাধ্য হয়ে গৃহকর্মীর কাজ নেন। বড় ছেলে মিলনকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দোকানে এবং গৌরকে শাহী মসজিদ মোড়ের একটি হোটেলে কাজে রাখেন।

সমবয়সী শিশুরা যখন স্কুলে যায় তখন গৌরকে টেবিলে টেবিলে খাবার দিতে হতো। চায়ের কাপ নিয়ে দৌড়াতে হতো দোকানে দোকানে! দিনভর হাড় ভাঙা খাটুনির পর হোটেল মালিক তিনবেলা খাবারের সঙ্গে সপ্তাহে দিতেন ১৫০ টাকা! অভাবের তাড়নায় এভাবেই শিশু গৌর হয়েছিল ‘হোটেল বয়’।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×