নুসরাত হত্যাকাণ্ড: আদালতে দোষ স্বীকার জোবায়েরের

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ০১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

সাইফুর রহমান ওরফে জোবায়ের আহম্মদ আদালতে হাজির করা হয়

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার মেধাবী ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার এজাহারের অন্যতম আসামি সাইফুর রহমান ওরফে জোবায়ের আহম্মদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

রোববার দুপুরে ফেনীর সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহম্মদের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।

জবানবন্দির পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফ করেন পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের স্পেশাল পুলিশ সুপার মো. ইকবাল। তিনি বলেন, জোবায়ের আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়- সে ঘটনার দিন কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয় এবং মেসের কাঠির মাধ্যমে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, জবানবন্দিতে জোবায়ের এ হত্যার বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তা উল্লেখ করা যাবে না।

এর আগে ১০ এপ্রিল জোবায়েরকে সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১১ তারিখে একই আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়। সে নুসরাতের সহপাঠী ছিল এবং সোনাগাজী পৌর শহরের তুলাতলি গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে।

মামলার অন্যতম আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে আসে জোবায়েরের কথা।

জবানবন্দিতে শামীম বলে, নুসরাতকে মেঝেতে শুইয়ে ফেলার পর জোবায়ের নুসরাতের ওড়না দুই টুকরো করে তার হাত ও পা বেঁধে ফেলেন।

এ দিকে শনিবার জোবায়েরকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই এবং ঘটনায় ব্যবহৃত বোরকা উদ্ধার করা হয় সোনাগাজী ডাঙ্গি খাল থেকে।

গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত আলিমের আরবি পরীক্ষা প্রথম পত্র দিতে গেলে মাদ্রাসায় দুর্বৃত্তরা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ দিন পর ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায়। পরদিন ১১ এপ্রিল বিকেলে তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে প্রধান আসামি করে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল থেকে মামলাটির দায়িত্ব পায় বিপিআই। সেই থেকেই গ্রেফতার হতে থাকে আসামিরা। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয় ২০ জন আসামি। আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে জোবায়েরসহ ৮ জন।